পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার).djvu/৩৩২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ করে বল দেখি । তিনি ত দেখচেন, কার ভুল, কার অপরাধের বোঝা মাথায় নিয়ে সে ডুবে গেল। তুই বল, আমি কোন মুখে তার দোষ দিই, আমি তাকে জাশীৰ্ব্বাদ না করে কি ক'রে থাকি ? না বোন, সংসারের চোখে সে যত কলঙ্কিনীই হোক, তার বিরুদ্ধে জামার কোন ক্ষোভ, কোন নালিশ নেই। নিজের দোষে এ-জন্মে তাকে পেয়েও হারালাম, ভগবান করুন, যেন পরজন্মেও তাকে পাই । সে আর বলিতে পারিল না, এইখানে তাহার গলা একেবারে ধরিয়া গেল। পুটি তাড়াতাড়ি উঠিয়া আঁচল দিয়া দাদার চোখ স্বছাইরা দিতে গিয়া নিজেও কাদিয়া ফেলিল, সহসা তাহার মনে হইল, দাদা যেন কোথায় সরিয়া ৰাইতেছে। কাদিয়া বলিল, যেখানে ইচ্ছে চল দাদা, কিন্তু আমি তোমাকে একটি দিন কোথাও একলা ছেড়ে দেব না । নীলাম্বর মুখ তুলিয়া একটুখানি হাসিল। বিরাজ জগন্নাথের পথে ফিরিয়া আসিতেছিল। এই পথ ধরিয়া যখন সে অনির্দিষ্ট মৃত্যুশয্যার অনুসন্ধানে গিয়াছিল, সে যাওয়ায় আর এই আসার কি প্রভেদ। এখন সে বাড়ি যাইতেছে। তাহার দুৰ্ব্বল দেহ পথে যতই সকাতরে বিশ্রাম ভিক্ষা চাহিতে লাগিল, ততই সে ক্রুদ্ধ ও বিরক্ত হইয়া উঠিতে লাগিল। কোন কারণে কোথাও বিলম্ব করিতে সে সম্মত নয়। তাহার কালি ধঙ্কায় পরিণত হইয়াছে, ইহা সে টের পাইয়াছিল, তাই আশঙ্কার অবধি ছিল না, পাছে ৰাওয়া না ঘটে। ছেলেবেলা হইতে একটা বিশ্বাস তাহার বড় দৃঢ় ছিল, দেহ নিষ্পাপ না হইলে কেহ স্বামীর পায়ে মরিতে পায় না। সে এই উপারে মরণের পূৰ্ব্বে একবার নিজের দেহটাকে যাচাই করিয়া লইতে চায়—তাহার প্রায়শ্চিভ সম্পূর্ণ হইয়াছে কি না। এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হইতে পারিলে সে নির্ভয়ে মহানন্দ্রে জীবনের পরপারে দাড়াইয়া তাহার জন্য অপেক্ষা করিয়া বসিয়া থাকিবে ; কিন্তু দামোদরের এধারে আসিয়া তাহার হাতপ ফুলিয়া উঠিল, মুখ দিয়া অধিক পরিমাণে রক্ত পড়িতে লাগিল—আর কিছুতেই পা চলিল না। সে হতাশ হইয়া একটা গাছতলায় ফিরিয়া আসিয়া ভয়ে কঁাপিতে লাগিল । এ কি ভয়ানক অপরাধ যে, এত করিয়াও তাহার শেষ আশা মিটিল না । তাহার এ জন্ম গেল, পরজন্মেও আশা নাই, তবে সে আর কি করিবে। আশা নাই, তবুও সে গাছতলায় পড়িয়া সারাদিন হাত জোড় করিয়া স্বামীর পায়ে মিনতি জানাইতে লাগিল । ਆਿ পরদিন তারকেশ্বরের কাছাকাছি ও হাটবার ছিল। প্রভাত হইতে সেপথে গরুর গাড়ি চলিতে লাগিল। সে সাহসে ভর করিয়৷ এক বৃদ্ধ গাড়োয়ানকে ४३छ