পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার).djvu/৩৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


স্ত্রীকান্ত বৎসর পূৰ্ব্বে বর্খায় চাকরি করিতে আসিয়াছিল। বছর-দুই তাহার চিঠিপত্র পাওয়া গিয়াছিল ; কিন্তু এই ছয় বৎসর আর কোন উদ্দেশ নাই। দেশে আত্মীয়স্বজন আর কেহ নাই। মা ছিলেন, তিনিও মাস-খানেক পূর্বে ইহলোক ত্যাগ করায় অভিভাবকহীন হইয়া বাপের বাড়িতে থাকা অসম্ভব হইয়া পড়ায়, রোহিণীদাদাকে রাজী করিয়া বৰ্ম্মায় চলিয়াছে। একটুখানি চুপ করিয়া হঠাৎ বলিয়া উঠিল, আচ্ছ, এতটুকু চেষ্টা না করে কোন মতে দেশের বাড়িতে পড়ে থাকলেই কি আমার ভাল কাজ হ’ত ? তা ছাড়া এ বয়সে দুর্নাম কিনতেই বা কতক্ষণ । জিজ্ঞাসা করিলাম, কেন তিনি এতকাল আপনার কোন খোজ নেন না, কিছু জানেন ? না, কিছু জানিনে । তার পূৰ্ব্বে কোথায় ছিলেন, তা জানেন ? জানি। রেজুনেই ছিলেন, বৰ্মা রেলওয়েতে কাজ করতেন ; কিন্তু কত চিঠি দিয়েচি, কখনো জবাব পাইনি। অথচ একটা চিঠিও কোন দিন আমার ফিরে আসেনি। প্রতি পত্রই যে অভয়ার স্বামী পাইয়াছে, তাহ নিশ্চয় । কিন্তু কেন যে জবাব দেয় নাই, তাহার সম্ভবতঃ হেতু এইমাত্র ডাক্তারবাবুর কাছেই শুনিয়াছিলাম। অনেক বাঙালীই সেখানে গিয়া, কোন স্বন্দরী ব্রহ্মরমণী লইয়া আবার নূতন করিয়া ঘর-সংসার পাতে। এমনও অনেক আছে, যারা সারাজীবন আর কখনো দেশে ফিরিয়াও যায় না। আমাকে চুপ করিয়া থাকিতে দেখিয়া অভয় প্রশ্ন করিল, তিনি বেঁচে নেই, তাই কি আপনার মনে হয় ? - ঘাড় নাড়িয়া কহিলাম, বরং তার উণ্টো । তিনি যে বেঁচে আছেন এ কথা আমি শপথ করে বলতে পারি। খপ করিয়া অভয়া আমার পায়ে হাত দিয়া হাতটা মাথায় ঠেকাইয়া কহিল, আপনার মুখে ফুল-চন্দন পড়ুক শ্ৰীকান্তবাবু, আমি আর কিছুই চাইনে। তিনি বেঁচে থাকলেই হ’ল । আমি পুনরায় মৌন হুইয়া রহিলাম। অভয়া নিজেও কিছুক্ষণ মৌন থাকিয়া বলিল, আপনি কি ভাবচেন, আমি জানি । জানেন ? জানিনে ? আপনি পুরুষমানুষ হয়ে ভাবতে পারলেন, আর আমার মেয়েমানুষের মনে সে ভয় হয়নি? তা হোক, আমি ভয় করিনে-আমি সতীন নিয়ে ঘর করতে পারব ? - তথাপি চুপ করিয়া রহিলাম। কিন্তু আমার মনের কথা অহমান করিতে এই ●○ ২য়—t