পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার).djvu/৩৯১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


মক-বিধান ফোট-তিলক যতই কেন না সে প্রয়াগে বসিয়া করুক, ঐগুরু ও গুরুভাইদের দল এ কুমতলব তাহাকে প্রাণ গেলেও দিবে না । তার পরে ফিরিয়া জাগিলে একবার লড়াই ৰুরিয়া দেখিতে হুইবে । সেদিন চা খাইতে বসিয়া ক্ষেত্রমোহন কহিলেন, এবার কিন্তু উষা বৌঠাকরুন এলে র্তাকে তাড়াতাড়ি ভাইকে ডাকিয়ে, আর বাপের বাড়ি পালাবার ফন্দি করতে হবে না। জপ-তপের মধ্যে দুজনের বনবে । বিভার মুখ মলিন হইল, জিজ্ঞাসা করিল, তার আসার কথা তুমি গুনেচ নাকি । না । বিভা ক্ষণকাল চুপ করিয়া থাকিয়া আস্তে আস্তে বলিল, পাড়াগায়ে শুনেচি নানারকমের তুক্তাক্ আছে, আচ্ছা, তুমি বিশ্বাস কর । ক্ষেত্রমোহন হাসিয়া কহিলেন, না। যদিও বা থাকে তিনি এসব করবেন না । কেন করবেন না ? ক্ষেত্রমোহন বলিল, বৌঠাকরুনের ওপর আমি খুশী নই, তার প্রতি আমার সে শ্রদ্ধাও আর নেই, কিন্তু এই সব হীন কাজ যে তিনি করতেই পারেন না তা তোমাকে আমি দিব্যি করে বলতে পারি। বিভা ঠিক বিশ্বাস করিল না। শুধু ধীরে ধীরে কহিল, যা ইচ্ছে হোক, কিন্তু ছেলেটাকে আমি কেড়ে আনবই, তোমাকেও আমি প্রতিজ্ঞা করে বললুম। বেহার আসিয়া খবর দিল, বন্ধু দু’থান বড় কার্পেট চাহিতে আসিয়াছে। বন্ধু শৈলেশের অনেক দিনের ভূত্য, বিভা সবিস্ময়ে প্রশ্ন করিল, সে কার্পেট নিয়ে কি করবে ? বলিতে বলিতে উভয়েই বাহিরে আগিতেই বন্ধু সেলাম করিয়া তাহার প্রার্থনা জানাইল । কাপেটে হবে কি বন্ধু ? কি জানি মেমসাহেব, গান-বাজনা না কি হবে । করবে কে ? সাহেবের সঙ্গে তিন-চারজন লোক এসেছে, করবে বোধ হয় তারাই । দাদা এলেছেন ? ক্ষেত্রমোহন কহিলেন, শৈলেশ এসেছে ? বন্ধু ঘাড় নাড়িয়া জানাইল যে, কাল রাত্ৰে সকলেই ফিরিয়া আসিয়াছেন। কাপেট লইয়। সে প্রস্থান করিলে দুজনেই নতমুখে নিঃশবে দাড়াইয়া রহিলেন। সেইদিনটা কোনমতে ধৈৰ্য্য ধরিয়া ক্ষেত্রমোহন পরদিন বিকালে বিভা ও উমাকে সজে করিয়া এ-বাটীতে আসিয়া উপস্থিত হইলেন। অভ্যাসমত নীচের লাইব্রেরি-বরে প্রবেশ করিতে গিয়া বাধা পড়িল। দরজার সে ভারী পর্দাটা নাই, ভিতরের সমস্তই இதe देब्रु-8a