প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার).djvu/৬৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ঐকান্ত এক দিকে তাহার বন্ধী স্ত্রীপুত্রকে আনিয়া, অন্য দিকে অভয়াকে জানিবার জন্য প্রত্যহ সাধ্যসাধনা করিতেছে ; কিন্তু কোনমতেই তাঁহাকে সম্মত করিতে পারিতেছে না। সহধর্মিণীর এইপ্রকার অবাধ্যতায় সে অতিশয় মৰ্ম্মণীড়া অনুভব করিতেছে। ইহা যে শুধু কলিকালের ফল, এবং সত্যযুগে যে এরূপ ঘটিত না—বড় বড় মুনি-ঋষদের পৰ্য্যন্ত যে—দষ্টান্ত-সমেত তাহার পুনঃ পুন: উল্লেখ করিয়া সে লিখিয়াছে, হায়! সে আর্য্য-ললনা কৈ ! সে সীতা-সাবিত্রী কোথায়! যে আর্য্য নারী স্বামীর পদযুগল বক্ষে ধারণ করিয়া, হাসিতে হাসিতে চিত্তায় প্রাণ বিসর্জন করিয়া স্বামী-সহ অক্ষয় স্বৰ্গলাভ করিতেন, তারা কোথায় ? যে হিন্দু-মহিলা হাস্তবদনে তাহার কুণ্ঠ-গলিত স্বামী-দেবতাকে স্বন্ধে করিয়া বারাঙ্গনার গুহে পৰ্য্যন্ত লইয়া গিয়াছিল, কোথায় সেই পতিব্ৰতা রমণী ? কোথায় সেই স্বামীভক্তি ! হায় ভারতবর্ষ! তুমি কি একেবারেই অধঃপথে গিয়াছ । আর কি আমরা সে সকল চক্ষে দেখিব না? আর কি আমরাইত্যাদি ইত্যাদি প্রায় দুইপাতা-জোড়া বিলাপ। কিন্তু অভয়া পতি-দেবতাকে এই পর্য্যন্ত মনোবেদনা দিয়াই ক্ষান্ত হয় নাই । আরও আছে । সে লিখিয়াছে, শুধু যে তাহার অৰ্দ্ধাঙ্গিনী এখনও পরের বাটতে বাস করিতেছে তাই নয়, সে আজ পরম-বন্ধু পোস্টমাস্টারের কাছে জ্ঞাত হইয়াছে যে, কে-একটা রোহিণী তাহার স্ত্রীকে পত্র লিখিয়াছে এবং টাকা পাঠাইয়াছে । ইহাতে হতভাগ্যের কি পৰ্য্যন্ত যে ইজ্জত নষ্ট হইতেছে, তাহা লিখিয়া জানান অসাধ্য। চিঠিখানা পড়িতে পড়িতে হাসি সামলাইতে না পারিলেও রোহিণীর ব্যবহারে রাগ কম হইল না। আবার তাহাকে চিঠি লেখাই বা কেন, টাকা পাঠানোই বা কেন ? যে স্বেচ্ছায় স্বামীর ঘর করিতে এত দুঃখ স্বীকার করিয়াছে, বুঝিয়া হোক, না বুঝিয়া হোক আবার তাহার চিত্তকে বিক্ষিপ্ত করার প্রয়োজন কি ? আর অভয়াই বা এরূপ ব্যবহার আরম্ভ করিয়াছে কিসের জন্য ? সে কি চায় তাহার স্বামী যাহাকে স্ত্রীর মত গ্রহণ করিয়াছে, ছেলে-মেয়ে হইয়াছে, তাহাদের ত্যাগ করিয়া শুধু তাহাকে লইয়াই সংসার করে ? কেন, বর্মাদের মেয়ে কি মেয়ে নয় ? তার কি মুখ-দুঃখ মান-অপমান নাই ? স্যায়-অন্যায়ের আইন কি তাহার জন্যে আলাদা করিয়া তৈরী করা হইয়াছে ? আর তাই যদি, তবে সেখানে তাহার যাওয়াই বা কেন ? সব ঝঞ্ঝাট এখান হইতে স্পষ্ট করিয়া চুকাইয়া দিলেই ত হইত। সেই পৰ্য্যন্ত রোহিণীর সহিত সাক্ষাৎ করিতে যাই নাই। সে যে অযথা ক্লেশ পাইতেছে, তাহা মনে মনে বুঝিয়াই, বোধ করি সেদিকে পা বাড়াইতে আমার প্রবৃত্তি হয় নাই। আজ ছুটির পূর্বেই গাড়ি ডাকিতে পাঠাইয়া উঠি উঠি করিতেছি, এমন সময়ে অভয়ার পত্র আসিয়া পড়িল । খুলিয়৷ দেখিলাম, আগাগোড়া লেখা রোহিণীর JN