প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার).djvu/৯৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ স্বতরাং তাঁহাতে কাজ নাই। বরঞ্চ সেই যে রেজুনের আর এক প্রাস্তে অভয়া বলিয়া একটা মহা পাপিষ্ঠ পতিতা নারী আছে,—এতদিন যাহাকে ঘৃণা করিয়া আসিয়াছি,—তাহারই কাধের উপর এই মারাত্মক পীড়ার বিত্র বোঝাটা ঘৃণাভরে নামাইয়া দিয়া আসি গে, মরিতে হয় সে মরুক। হয়ত তাহাতে কিছু পুণ্য-সঞ্চয়ও হইয়া যাইতে পারে। এই বলিয়া চাকরকে গাড়ি আনিতে হুকুম করিয়া দিলাম। >:R সেদিন যখন মৃত্যুর পরওয়ানা হাতে লইয়া অভয়ার দ্বারে আসিয়া দাড়াইয়াছিলাম, তখন মরণের চেয়ে মরার লজ্জাই আমাকে বেশী ভয় দেখাইয়াছিল। অভয়ার মুখ পাণ্ডুর হইয় গেল ; কিন্তু সেই পাংশু ওষ্ঠাধর ফুটয় শুধু এই কটি কথা বাহির হইল—তোমার দায়িত্ব আমি নেব না ত কে নেবে ? এখানে আমার চেয়ে কার গরজ বেশী ? দুই চক্ষু আমার জলে ভাসিয়া গেল ; তবুও বলিলাম, আমি ত চললুম। পথের কষ্ট আমাকে নিতেই হবে সে নিবারণ করবার সাধ্য কারও নেই। কিন্তু যাবার মুখে তোমাদের এই নূতন ঘর-সংসারের মধ্যে এতবড় একটা বিপদ ঢেলে দিয়ে যেতে আর আমার কিছুতেই মন সরচে না অভয় । এখনও গাড়ি দাড়িয়ে রয়েচে, এখনও জ্ঞান আছে—এখনও ভদ্রভাবে প্লেগ হাসপাতালে গিয়ে উঠতে পারি। তুমি শুধু একটি মুহূর্তের জন্য মনটা শক্ত করে বল, আচ্ছা যাও। অভয়া কোন উত্তর না দিয়া, আমাকে হাত ধরিয়া আনিয়া বিছানায় শোয়াইয়া দিয়া এইবার নিজের চোখ মুছিল । আমার উত্তপ্ত ললাটের উপর ধীরে ধীরে হাত বুলাইয়া কহিল, তোমাকে যাও বলতে যদি পারতুম তা হলে নূতন ক’রে ঘরসংসার পাততে যেভূম না। আজ থেকে আমার নতুন সংসার সত্যিকারের সংসার হ’ল। কিন্তু খুব সম্ভব, সে আমার প্লেগ নয়। তাই মরণ আমাকে শুধু একটু ব্যঙ্গ করিয়াই চলিয়া গেল। দিন-দশেক পরে উঠিয়া দাড়াইলাম ; কিন্তু অভয়া আমাকে আর হোটেলে ফিরিতে দিল না। অফিসে যাইব, কি আরও কিছুদিনের ছুটি লইয়া বিশ্রাম করিব ভাবিতেছি, এমন সময়ে একদিন অফিসের পিয়ন আসিয়া চিঠি দিয়া গেল। খুলিয়া দেখিলাম, পিয়ারীর চিঠি। বর্শায় আসার পরে এই তাহার পত্র ; আমাকে জবাব না দিলেও, আমি কখনো কখনো তাহাকে চিঠি লিখিতাম। আসিবার সময় এই শর্তই সে আমাকে স্বীকার করাইয়া লইয়াছিল। পত্রের প্রথমে সে ইহারই উল্লেখ করিয়া লিখিয়াছে, আমি মরলে তুমি খবর পাইবে। বাচিয়া থাকার মধ্যে আমার এমন সংবাদই থাকিতে পারে না, যাহা তোমার না জানিলেই the