প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (নবম সম্ভার).djvu/১২১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


C কহিল, সেজদা, এরাই সব আমাদের আশ্রমের ছেলে। আপনি যাদের লক্ষ্মীছাড়ার দল বলেন। আমাদের চাকর-বামুন নেই, সমস্ত কাজ এদের নিজেদের করতে হয়। বৌদি, আমুন আমাদের রান্নাশালায়। আজ আমাদের পর্বদিন, সেখানকার আয়োজন একবার দেখে আসবেন চলুন। নীলিমার পিছনে পিছনে সবাই আসিয়া রান্নাঘরের দ্বারের কাছে দাড়াইলেন । একটি বছর দশ-বারোর ছেলে উনান জালিতেছিল এবং সেই বয়সের একটি ছেলে বঁটিতে আলু কুটিতেছিল, উভয়েই উঠিয়া দাড়াইয়া নমস্কার করিল। নীলিমা ছেলেটিকে স্নেহের কণ্ঠে সম্বোধন করিয়া প্রশ্ন করিল, আজ তোমাদের কি রান্না হবে বাবা ? ছেলেটি প্রফুল্লমুখে কহিল, আজ রবিবারে আমাদের জালুর দম হয়। আর কি হয় ? আর কিছু না । নীলিমা ব্যাকুল হইয়া জিজ্ঞাসা করিল, শুধু আলুর দম ? ডাল কিংবা ঝোল, কিংবা আর কিছু— ছেলেটি শুধু কহিল, ডাল আমাদের কাল হয়েছিল। সতীশ পাশে দাড়াইয়াছিল, বুঝাইয়া বলিল, আমাদের আশ্রমে একটার বেশি হবার নিয়ম নেই । হরেন্দ্র হাসিয়া কহিল, হবার যে নেই বৌদি, হবে কোথা থেকে ? ভায় এইভাবেই পরের কাছে আশ্রমের গৌরব রক্ষা করেন। নীলিমা জিজ্ঞাসা করিল, দাসী-চাকরও নেই বুঝি ? হরেজ কহিল, না । তাদের আনলে আলুর দমকে বিদায় দিতে হবে । ছেলেরা সেটা পছন্দ করবে না। নীলিমা আর প্রশ্ন করিল না, ছেলে দুটির মুখের পানে চাহিয়া তাহার দুই চক্ষু ছল ছল করিতে লাগিল। কহিল, ঠাকুরপো, আর কোথাও চল । সকলেই এ-কথার অর্থ বুঝিল । হরেন্দ্ৰ মনে মনে পুলকিত হইয়া কহিল, চলুন। কিন্তু আমি নিশ্চয় জানতাম বৌদি, এ আপনি সইতে পারবেন না । এই বলিয়া সে কমলের প্রতি চাহিয়া বলিল, কিন্তু আপনি নিজেই এতে অভ্যন্ত—শুধু আপনিই বুঝবেন এর সার্থকতা। তাই সেদিন আমার এই ব্রহ্মচৰ্য্যাশ্রমে আপনাকে সসন্ত্রমে আমন্ত্রণ করেছিলাম । হয়েন্ত্রর গভীর ও গম্ভীর মুখের প্রতি চাহিয়া কমল হাসিয়া ফেলিয়া বলিল, আমার নিজের কথা আলাদা, কিন্তু এইসব শিশুদের নিয়ে প্রচণ্ড আড়ম্বরে এই 3??