প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (নবম সম্ভার).djvu/১২৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শেষ প্রশ্ন মুমুখে ঝুকিয়া যেন অন্তরের মুকঠোর সঙ্কল্প কোনমতে চাপ দিয়া আছে। হঠাৎ দেখিলে ভয় হয় এই মানুষটাকে এড়াইয়া চলাই ভাল। হরেক্স কহিল, ইনিই আমার বন্ধু—শুধু বন্ধু নয়, ছোট ভাইয়ের মত, রাজেন। এতবড় - কৰ্ম্মী, এতবড় স্বদেশভক্ত, এতবড় ভয়শূন্ত সাধু-চিত্ত পুরুষ আমি আর দেখিনি। বৌদি, এর প্রশ্নই সেদিন আপনার কাছে করেছিলাম। ও যেমন অবলীলায় পায়, তেমনি অবহেলায় ফেলে দেয়। আশ্চৰ্য্য মানুষ ! অজিতবাবু, একেই আপনার তল্পি বইতে সঙ্গে দিতে চেয়েছিলাম। অজিত কি একটা বলিতে যাইতেছিল, একটি ছেলে আসিয়া খবর দিল, অক্ষয়বাবু আসিয়াছেন। হরেন্দ্র বিস্মিত হইয়া কহিল, অক্ষয়বাবু! অক্ষয় ঘরে প্রবেশ করিতে করিতে কহিল, হঁহে ই—তোমার পরমবন্ধু অক্ষয়কুমার। সহসা চমকিয়া বলিল, র্য্যা ! ব্যাপার কি আজ ? সবাই উপস্থিত যে ! আণ্ডবাবুর সঙ্গে গাড়ীতে বেড়াতে বেরিয়েছিলাম, পথে নাবিয়ে দিলে। সামনে দিয়ে যাচ্ছিলাম, হঠাৎ মনে হ’ল হরি ঘোষের গোয়ালটা একটু তদারক করেই যাই না । তাই আসা, তা বেশ । এ-সকল কথার কেহ জবাব দিল না, কারণ, জবাব দিবারও কিছু নাই এ-বিশ্বাসও কেহ করিল না। অক্ষয়ের এটা পথও নয়, এ বাসায় সে সহজে আসেও না। অক্ষয় কমলের প্রতি চাহিয়া বলিল, তোমার ওখানে কাল সকালেই যাব ভেবেছিলাম, কিন্তু বাড়িটা ত চিনিনে—ভালই হ’ল যে দেখা হয়ে গেল। একটা সুসংবাদ আছে। কমল নিঃশব্দে চাহিয়া রহিল ; হরেন্দ্র জিজ্ঞাসা করিল, সুসংবাদটা কি শুনি ? খবরটা যখন শুভ তখন গোপনীয় নয় নিশ্চয়ই। অক্ষয় কহিল, না, গোপন করবার আর কি আছে। পথের মধ্যে আজ সেই সেলাইয়ের কল বিক্রী-আলা পাশী বেটার সঙ্গে দেখা । সেই সেদিন যে কমলের হয়ে টাকা ধার চাইতে গিয়েছিল। গাড়ী থামিয়ে ব্যাপারটা শোনা গেল। কমলকে দেখাইয়া কহিল, উনি ধারে একটা কল কিনে ফতুয়া-টতুয়া শেলাই করে খরচ চালাচ্ছিলেন–শিবনাথ ত দিব্যি গা-ঢাকা দিয়েচেন, কিন্তু কড়ার মত দাম দেওয়া চাই ত ! তাই সে কলটা কেড়ে নিয়ে গেছে—আপ্তবাবু আজ পুরো দাম দিয়ে সেটা কিনে নিলেন। কমল কাল সকালে লোক পাঠিয়ে কলটা আদায় করে নিয়ে। খাওয়া-পরা চলছিল না, আমাদের ত সে-কথা জানালেই হ’ত । ১৯৭