প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (নবম সম্ভার).djvu/১৩৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎসাহিত্য-সংগ্ৰহ কমল তাহার মুখপানে চাহিয়া কহিল, আছে শুধু একজনের বিরুদ্ধে। কার বিরুদ্ধে শুনি না কমল ? কি হবে আপনার অপরের কথা শুনে ? অপরের কথা ! যাই হোক, তবু ত নিশ্চিন্ত হতে পারব, অন্ততঃ আমার ওপর তোমার রাগ নেই। কমল কহিল, নিশ্চিন্ত হলেই কি খুশি হবেন ? কিন্তু তার এখন আর সময় নেই, আমরা এসে পড়েচি, গাড়ী থামান, আমি নেমে যাই । গাড়ী থামিল। অন্ধকারে রাস্তার ধারে কে একজন দাড়াইয়াছিল, কাছে আসিতেই উভয়ে চমকিয়া উঠিল। অজিত সভয়ে প্রশ্ন করিল, কে ? আমি রাজেন ৷ আজি হরেনদীর আশ্রমে দেখেচেন । ও;—রাজেন ? এত রাত্রে এখানে কেন ? আপনাদের জন্মই অপেক্ষা করে আছি । আপনার চলে আসার পরেই আপ্তবাবুর বাড়ি থেকে লোক গিয়েছিল আপনাকে খুজতে। বলিয়। সে কমলের প্রতি চাহিল । কমল কহিল, আমাকে খুজতে যাবার হেতু ? লোকটি কহিল, আপনি বোধ হয় শুনেচেন চারিদিকে অত্যন্ত ইনফ্লুয়েঞ্জা হচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রেই মারা যাচ্ছে। শিবনাথবাবু অতিশয় পীড়িত। হঠাৎ ডুলি করে তাকে আশুবাবুর বাড়িতে নিয়ে এসেচে। আগুবাবু ভেবেছিলেন আপনি আশ্রমে আছেন তাই ডাকতে পাঠিয়েছিলেন। রাত এখন কত ? বোধ হয় তিনটে বেজে গেছে । কমল হাত বাড়াইয়া গাড়ীর দরজা খুলিয়া দিয়া কহিল, ভিতরে আস্বন, পথে আপনাদের আশ্রমে পৌছে দিয়ে যাব । অজিত একটা কথাও কহিল না। কাঠের পুতুলের মত নিঃশব্দে গাড়ী চালাইয় হরেন্দ্রর বাসার সম্মুখে আসিয়া থামিল। রাজেন অবতরণ করিলে কমল কহিল, আপনাকে ধন্যবাদ। আমাকে খবর দেবার জন্তে আজ আপনি অনেক দুঃখ ভোগ করলেন"। এ আমার কাজ। প্রয়োজন হলেই সংবাদ দেবেন। বলিয়া সে চলিয়া গেল । ভূমিকা নাই, আড়ম্বর নাই, শাদা কথায় জানাইয় গেল এ তাহার কৰ্ত্তব্যের অন্তর্গত। আজই সন্ধ্যাকালে হরেন্দ্রর মুখে এই ছেলেটির সম্বন্ধে যত-কিছু সে গুনিয়াছিল সমস্তই ১২৪