প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (নবম সম্ভার).djvu/১৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শেষ প্রশ্ন পড়ায় এবং বন্ধু-বান্ধব লইয়া আনন্দ করিয়া বেড়ায়। অবস্থা স্বচ্ছল—নিশ্চিন্ত, নিরুপদ্রব জীবন। বছর-দুই পূৰ্ব্বে বিধবা শুালিকা ম্যালেরিয়া জরাক্রান্ত হইয়া বায়ুপরিবর্তনের উদ্দেশ্যে ভগিনীপতির কাছে আসেন। জর ছাড়িল কিন্তু ভগিনীপতি ছাড়িলেন না। সম্প্রতি গৃহে তিনি কী। ছেলে মানুষ করেন, ঘর-সংসার দেখেন, বন্ধুরা সম্পর্ক আলোচনা করিয়া পরিহাস করে। অবিনাশ হাসে—বলে, ভাই, বৃথা লজ্জা দিয়ে আর দগ্ধ করে না—কপাল! নইলে চেষ্টার ক্রটি নেই। এখন ভাবি, ধন অপবাদে ডাকাতে মারে সেও আমার ভাল। অবিনাশ স্ত্রীকে অত্যন্ত ভালবাসিত । বাটীর সর্বত্র তাহার ফটোগ্রাফ নানা আকারের নানা ভঙ্গীর । শোবার ঘরের দেওয়ালে টাঙানো একখানা বড় ছবি । অয়েল পেটিঙ, মূল্যবান ফ্রেমে বাধানে । অবিনাশ প্রতি বুধবারের সকালে তাহাতে মালা ঝুলাইয়া দেয়। এইদিনে তাহার মৃত্যু হইয়াছিল। অবিনাশ সদানন্দ গোছের মানুষ। তাস-পাশায় তাহার অত্যধিক আসক্তি। তাই ছুটির দিনে প্রায়ই তাহার গৃহে লোকসমাগম ঘটে। আজ কি-একটা পৰ্ব্বোপলক্ষে কলেজ কাছারি বন্ধ ছিল । আহারাদির পরে প্রফেসর-মহল আসিয়া উপস্থিত হইযাছেন, জন-দুই নীচের ঢাল বিছানার উপরে দাবার ছক পাতিয়া বসিয়া এবং জন-দুই উপুড় হইয় তাহ নিরীক্ষণ করিতেছেন, বাকি সকলে ডেপুটি ও মুন্সেফের বিস্তাবুদ্ধির স্বল্পতার অনুপাতে মোট মাহিনীর বহর মাপিয়া উচ্চ কোলাহলে গভর্নমেন্টের প্রতি রাইচাস ইন্‌ডিগনেশন ও অশ্রদ্ধা প্রকাশ করিতে নিযুক্ত। এমন সময় মস্ত একটা ভারি মোটর আসিয়া সদর দরজায় থামিল। পরক্ষণে আশুবাবু র্তাহার কন্যাকে লইযা প্রবেশ করিতেই সকলেই সসম্মানে তাহদের অভ্যর্থনা করিলেন। রাইচাস ইন্‌ডিগ্ৰনেশন জল হইয় গেল, ও-দিকের খেলাটা উপস্থিত-মত স্থগিত রহিল, অবিনাশ সবিনয়ে বদ্ধাঞ্জলি হইয়া কহিলেন, আমার পরম সৌভাগ্য আপনাদের পদধূলি আমার গৃহে পড়লো, কিন্তু হঠাৎ এমন অসময়ে যে ? বলিয়া তিনি মনোরমকে একথানি চেয়ার আগাইয়া দিলেন। আগুবাবু সন্নিকটবর্তী আরাম-কেদারার উপর দেহের সুবিপুল ভার স্তন্ত করিয়া অকারণ উচ্চহাস্তে ঘর ভরিয়া দিয়া কহিলেন, আশু বপ্তির অসময় ? এতবড় দুর্নাম যে আমার ছোটখুড়োও দিতে পারেন না অবিনাশবাবু ? মনোরমা হাসিমুখে নতকণ্ঠে কহিল, কি বলচ বাবা ? আপ্তবাবু বলিলেন, তবে থাক্‌ ছোটখুড়োর কথা । কন্যার আপত্তি, কিন্তু এর চেয়ে একটা ভাল উদাহরণ ম{-ঠাকরুণের বাপের সাধ্যি নেই যে দেয়। এই বলিয়া Ç