প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (নবম সম্ভার).djvu/১৮৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শেষ প্রশ্ন কমল চুপ করিয়া তাহার মুখের প্রতি চাহিয়া রহিল। হরেন্দ্র বলিল, আপনাদের আশীৰ্ব্বাদে মোটা-বুদ্ধিই আমাদের অক্ষয় হয়ে থাকৃ—- এতেই লাভ বেশি। আপনাদের স্বল্প-বুদ্ধির অভিমানে উপোল করে মরতে আমরা নারাজ । কমল এ-কথার জবাব দিল না । হরেক্স কহিল, এখন থেকে আপনার স্বল্প-বুদ্ধিটাকেও মধ্যে মধ্যে যাচাই করে দেখব । কমল বলিল, সে আপনি পারবেন না, গরীব বলে আপনার দয়া হবে। শুনিয়া হরেন্দ্র প্রথমটা অপ্রতিভ হইল, তাহার পরে বলিল, দেখুন এ-কথার জবাব দিতে বাধে। কেন জানেন ? মনে হয় যেন রাজরাণী হওয়াই যাকে সাজে, কাঙালপনা তাকে মানায় না। মনে হয় যেন আপনার দারিদ্র্য পৃথিবীর সমস্ত বড়লোকের মেয়েকে উপহাস করচে । 晶 কথাটা তীরের মত গিয়া কমলের বুকে বাজিল । হরেন্দ্র পুনরায় কি একটা বলিতে যাইতেছিল, কমল থামাইয়া দিয়া বলিল, আপনার খাওয়া হয়ে গেছে এবার উঠুন। ও-ঘরে গিয়ে সারারাত গল্প শুনবো, এ-ঘরের কাজটা ততক্ষণ সেরে নিই। থানিক পরে শোবার ঘরে আসিয়া কমল বসিল, কহিল, আজ আপনার বৌদিদির সমস্ত ইতিহাস না গুনে আপনাকে ছাড়বে না, তা যত রাত্রিই হোক। বলুন। * হরেন্দ্র বিপদে পড়িল, কহিল, বৌদিদির সমস্ত কথা ত আমি জানিনে। তার সঙ্গে প্রথম পরিচয় আমার এই আগ্রায়, অবিনাশদার বাসায়। বস্তুতঃ তার সম্বন্ধে কিছুই প্রায় জানিনে। যেটুকু এখানকার অনেকেই জানে, আমিও ততটুকু জানি । কেবল একটা কথা বোধ করি সংসারের সকলের চেয়ে বেশি জানি, সে তার অকলঙ্ক শুভ্রতা। স্বামী যখন মারা যান, তখন বয়স ছিল ওঁর উনিশ-কুড়ি—তাকে সমস্ত হৃদয় দিয়েই পেয়েছিলেন । সে স্কৃতি মৌছেনি, মোছবার নয়—জীবনের শেষ দিনটি পর্য্যন্ত সে স্থতি অক্ষয় হয়ে থাকবে। পুরুষ-মহলে আগুবাবুর কথা যখন ওঠে, তার নিষ্ঠীও অনন্তসাধারণ—আমি অস্বীকার করিনে, কিন্তু— হরেনবাবু, রাত্রি অনেক হ’লো এখন ত আর বাসায় যাওয়া চলে না—এই ঘরেই একটা বিছানা করে দিই ? হরেন্দ্র বিস্ময়াপল্প হইয়া জিজ্ঞাসা করিল, এই ঘরে ? কিন্তু আপনি ? কমল কহিল, আমিও এইখানে শোব। আর ত স্বর নেই। ১৭৩