প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (নবম সম্ভার).djvu/২১৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ আপ্তবাবু বিমূঢ়ের স্তায় শুধু প্রশ্ন করিলেন, কেন ? নীলিমা কহিল, কেন তা বলা বৃথা । আপনার বুঝতে পারবেন না। একটু খামিয়া বলিল, আপ্তবাবু, স্বামী-স্ত্রীর তুল্য অধিকার—এ একটা অত্যন্ত স্কুল কথা । কিন্তু তাই বলে এমন ভাববেন না যে, মেয়েমানুষ আমি মেয়েদের দাবির প্রতিবাদ করচি। প্রতিবাদ আমি করিনে, আমি জানি এ সত্যি, কিন্তু এ-কথাও জানি সত্য-বিলাসী একদল অবুঝ নর-নারীর মুখে মুখে, আন্দোলনে আন্দোলনে এ সত্য এমনি খুলিয়ে গেছে যে, আজ একে মিথ্যে বলতেই সাধ যায়। আপনার কাছে করজোড়ে প্রার্থনা, সকলের সঙ্গে জুটে কমলকে নিয়ে আর চর্চা করবেন না। আপ্তবাবু জবাব দিতে গেলেন, কিন্তু কথা বলিবার পূর্বেই সে সেলাইয়ের জিনিসপত্রগুলি তুলিয়া লইয়া ঘর হইতে চলিয়া গেল। তখন ক্ষুণ্ণ বিস্ময়ে নিশ্বাস ফেলিয়া শুধু বলিলেন, ও কবে কি শুনেচে জানিনে, কিন্তু আমার সম্বন্ধে এ অত্যন্ত অযথা দোষারোপ । বাহিরে কিছুক্ষণের জন্য বৃষ্টি থামিয়াছিল, কিন্তু উপরের মেঘাচ্ছন্ন আকাশ ঘরের মধ্যে অসময়ে অন্ধকার সঞ্চারিত করিল। ভূত্য আলো দিয়া গেলে তিনি চোখের সম্মুখে বইখানা আর একবার তুলিয়া ধরিলেন। ছাপার অক্ষরে মনঃসংযোগ করা সম্ভবপর নয়, কিন্তু বেলার সঙ্গে মুখোমুখি বসিয়া বাক্যালাপে প্রবৃত্ত হওয়া আরও অসম্ভবু বলিয়া মনে হইল। ভগবান দয়া করিলেন। একটা ছাতার মধ্যে সমস্ত পথ ঠেলাঠেলি করিয়া কুঞ্জব্রতধারী হরেন্দ্র-অজিত ঝড়ের বেগে আসিয়া ঘরে ঢুকিল। দুজনেই অর্ধেক ভিজিয়াছে। বলিল, বৌদি কই ? 劇 আপ্তবাবু চাদ হাতে পাইলেন। আজিকার দিনে কেহ যে আসিয়া জুটিবে এ ভরসা তাহার ছিল না ; সাগ্রহে উঠিয়া আসিয়া অভ্যর্থনা করিলেন, এসে অজিত, ব’সো হরেঞ্জ । বসি । বৌদি কোথায় ? ইস। দুজনেই যে ভারি ভিজে গেছে দেখচি । , আজ্ঞে ছ। তিনি কোথায় গেলেন ? ডেকে পাঠাচ্চি, বলিয়া আগুবাবু একটা হুঙ্কার ছাড়িবার উদ্যোগ করিতেই ভিতরের দিকে পর্দা সরাইয়া নীলিম আপনি প্রবেশ করিল। তাহার হাতে দুখানি শুষ্ক বস্ত্র এবং জামা । হরেক্স কহিল, এ কি ? আপনি হাত গুণতে জানেন না কি ? واهد