প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (নবম সম্ভার).djvu/২১৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শেষ প্রশ্ন নীলিমা বলিল, গোণা-গাথার দরকার হয়নি ঠাকুরপো, জানাল থেকেই দেখতে পেয়েছিলুম। একটি ভাঙা ছাতির মধ্যে যেভাবে তোমরা পরম্পরের প্রতি দরদ দেখিয়ে পথ চলছিলে, সে শুধু আমি কেন, বোধ করি দেশ-যুদ্ধ লোকের চোখে পড়েচে । ор জাপ্তবাবু বলিলেন, একটা ছাতার মধ্যে দুজনে ? তাইতে দুজনকেই ভিজতে হয়েচে । এই বলিয়া তিনি হাসিলেন। নীলিমা কছিল, ওঁরা বোধ হয় সমানাধিকারতৰে বিশ্বাসী, অঙ্গয় করেন না, তাই চুল-চিরে ছাতি ভাগ করে পথে হাটছিলেন। নাও ঠাকুরপো, কাপড় ছাড়ে । বলিয়া সে জামা-কাপড় হরেঞ্জের হাতে দিল । আপ্তবাবু চুপ করিয়া রছিলেন। হরেন্দ্ৰ কহিল, কাপড় দিলেন দুটাে, কিন্তু জাম যে একটি । জামাটা মস্ত বড় ঠাকুরপো, একটাতেই হবে, বলিয়া গভীর হইয়া পাশের চৌকিটায় উপবেশন করিল। * . হরেন্দ্র বলিল, জামাটা আশুবাবুর, সুতরাং দুজনের কেন, আরও জন-চারেকের হতে পারে, কিন্তু সে মশারির মত খাটাতে হবে, গায়ে দেওয়া চলবে না। বেলা এতক্ষণ শুষ্ক বিষঃ-মুখে নীরবে বসিয়াছিল, হাসি চাপিতে না পারিয়া উঠিয়া গেল এবং নীলিমাও জানালার বাহিরে চাহিয়া চুপ করিয়া রহিল। আশুবাবু ছদ্ম-গাম্ভীর্য্যের সহিত কহিলেন, রোগে ভুগে আধখানি হয়ে গেছি হরেন, আর খুড়ে না। দেখচো না মেয়েদের কি-রকম ব্যথা লাগলো। একজন সইতে না পেরে উঠে গেলেন, আর একজন রাগে মুখ ফিরিয়ে রয়েচেন , হরেক্স কহিল, খুড়িনি আণ্ডবাবু, বিরাটের মহিমা কীৰ্ত্তন করেচি। গোড়াখুড়ির দুষ্প্রভাব শুধু আমাদের মত নর-জাতিকেই বিপন্ন করে, আপনাদের স্পর্শ করতেও পারে না । অতএব চিরস্তুয়মান হিমাচলের স্থায়-ও-দেহ অক্ষয় হোক, মেয়েরা নিঃশঙ্ক হোন এবং জল-বৃষ্টির ছুত-নাতায় ইতর-জনের ভাগ্যে দৈনন্দিন মিষ্টারের বরাদে আজও যেন তাদের বিন্দুমাত্রও ব্যুনত না ঘটে। ... * নীলিমা মুখ তুলিয়া হাসিল, কহিল, বড়দের স্তুতিবাদ ত আবহমানকাল চলে। জালচে ঠাকুরপো, সেইটেই নির্দিষ্ট ধারা এবং তাতে তুমি সিদ্ধহস্ত, কিন্তু আজ একটু নিয়মের ব্যতিক্রম করতে হবে। আজ ছোটর খোষামোদ না করলে ইতর-জনের ভাগ্যে মিঠায়ের আঙ্কে একেবারে পূক্ত পড়বে। বেলা বারাঙ্গা হইতে ফিরিয়া আসিয়া বসিল । २8*