প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (নবম সম্ভার).djvu/২৪৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ চাই তারা গেরোর ওপর অনেক গেরো লাগিয়েই তবে নিশ্চিন্ত হতে পারে। অনেক ভার অনেক আয়োজন, অনেক জায়গা দিয়েই তবে জিনিসের দামের আন্দাজ তার পায়। পশ্চিমের দরজা খুলে স্বৰ্য্যোদয় দেখানোর চেষ্টা বৃথা হবে। কমল, আলোচনা বন্ধ থাক্। mm আপ্তবাবুর মুখ দিয়া আবার একট। দীর্ঘশ্বাস বাহির হইয়া আসিল, আস্তে আস্তে বলিলেন, বৃথা হবে কেন নীলিমা, বৃথা নয়। বেশ, চুপ করেই না হয় থাকবে । নীলিমা কহিল, না, সে আপনি করবেন না। সত্যি কি শুধু কমলের চিন্তাতেই আছে, আর পিতার শুভ-বুদ্ধিতে নেই ? এমন হতেই পারে না । ওর পক্ষে যা সত্যি, মণির পক্ষে তা সত্যি না-ও হতে পারে। স্ত্রীর দুশ্চরিত্র স্বামী পরিত্যাগ করার মধ্যে যত সত্যিই থাকৃ, বেলার পক্ষে স্বামী-ত্যাগের মধ্যে একবিন্দু সত্যি নেই আমি জোর করে বলতে পারি। সত্য স্বামীকে ত্যাগ করার মধ্যেও নেই, স্বামীর দাসীবৃত্তি করার মধ্যেও নেই, ও-দুটাে শুধু ডাইনে-বায়ের পথ, গন্তব্য স্থানটা আপনি খুজে নিতে হয়, তর্ক করে তার ঠিকান মেলে না। কমল নীরবে চাহিয়া রহিল । নীলিমা বলিতে লাগিল, স্বৰ্য্যের আশাটাই তার সবখানি নয়, তার চলে-যাওয়াটাও এমনি বড়। রূপ-যৌবনের আকর্ষণটাই যদি ভালবাসার সবটুকু হ’তো, মেয়ের সম্বন্ধে বাপের দুশ্চিন্তার কথাই উঠত না—কিন্তু তা নয়। আমি বই পড়িনি, জ্ঞান-বুদ্ধি কম, তর্ক করে তোমাকে বোঝাতে পারব না, কিন্তু মনে হয়, আসল জিনিসটির সন্ধান তুমি আজও পাওনি ভাই। শ্রদ্ধা, ভক্তি, স্নেহ, বিশ্বাস, কাড়াকড়ি করে এদের পাওয়া যায় না—অনেক দুঃখে, অনেক বিলম্বে এরা দেখা দেয় । যখন দেয়, তখন রূপ-যৌবনের প্রশ্নটা যে কোথায় মুখ লুকিয়ে থাকে, কমল, খোজ পাওয়াই দায় । তীক্ষ্ণধী কমল একনিমেষে বুঝিল উপস্থিত আলোচনায় ইহা অগ্রাহ। প্রতিবাদও নয়, সমর্থনও নয়, এ-সকল নীলিমার নিজস্ব আপন কথা। চাহিয়া দেখিল উজ্জল দীপালোকে নীলিমার এলো-মেলো ঘন-কৃষ্ণ চুলের শুামল ছায়ায় সুন্দর মুখখানি অভাবিত ঐ ধারণ করিয়াছে এবং প্রশাস্ত চোখের সজল দৃষ্টি সকরুণ স্নিগ্ধতায় কুলে কুলে ভরিয়া গিয়াছে। কমল মনে মনে কহিল, ইহা নবীন স্বৰ্য্যোদয়, অথবা শ্রান্ত রবির अखैशमन, ७ বৃথা—আরক্ত আভায় আকাশের যে-দিকটা আজ রাঙা ইইয়া উঠিয়াছে— পূৰ্ব্ব-পশ্চিম দিক-নির্ণয় না করিয়াই সে ইহার উদেশে সশ্রদ্ধ নমস্কার জানাইল। মিনিট দুই-তিন পরে আগুবাবু সহসা চকিত হইয়া কহিলেন, কমল, তোমার কথাগুলি আমি আর একবার ভাল করে ভেবে দেখব, কিন্তু আমাদের কথাগুলোকেও ২৩৮