প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (নবম সম্ভার).djvu/২৫১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


Sa শীতের সুৰ্য্য অস্ত গেল। সায়াহ্ন-ছায়ায় ঘরের মধ্যেটা ঝাপা হইয়াছে, একটা জরুরী সেলাইয়ের বাকিটুকু কমল আলো জালার পূৰ্ব্বে সারিয়া ফেলিতে চায়। অদূরে চৌকিতে বসিয়া অজিত। ভাবে বোধ হয় কি-একটা বলিতে বলিতে যেন হঠাৎ খামিয়া গিয়া সে উত্তরের আশায় উৎকষ্ঠিত আগ্রহে অপেক্ষা করিতেছে । মনোরমা-শিবনাথের ব্যাপারটা বন্ধু-মহলে জানাজানি হইয়াছে। আজিকার প্রসঙ্গটা সুরু হইয়াছে সেই লইয়া । অজিতের গোড়ার বক্তব্যটা ছিল এই যে, এমনিই একটা-কিছু যে শেষ পর্য্যন্ত গড়াইবে তাহা সে আগ্রায় আসিয়াই সন্দেহ করিয়াছিল। কিন্তু সন্দেহের কারণ সম্বন্ধে কমল কোন ঔৎসুক্য প্রকাশ করিল না । তাহার পর হইতে অজিত অনর্গল বকিয়া বকিয়া অবশেষে এমন জায়গায় আসিয়া থামিয়াছে যেখানে অপর পক্ষের সাড়া না পাইলে আর অগ্রসর হওয়া চলে না । কমল অত্যন্ত মনোযোগে সেলাই করিতেই লাগিল, যেন মাথা তুলিবার সময়টুকু নাই । মিনিট দুই-তিন নিঃশব্দে কাটিল । আরো কতকক্ষণ কাটিবে স্থিরতা নাই, অতএব অজিতকে পুনরায় চেষ্টা করিতে হইল, বলিল, আশ্চৰ্য্য এই যে, শিবনাথের আচরণ তোমার কাছে ধরাই পড়ল না । কমল মুখ তুলিল না, কিন্তু ঘাড় নাড়িয়া বলিল, না । অর্থাৎ তুমি এতই শাদা-সিদে যে কোন সন্দেহ করনি, এ কি কেউ বিশ্বাস করতে পারে ? কেউ কি পারে না-পারে জানিনে, কিন্তু আপনিও কি পারবেন না ? অজিত বলিল, হয়ত পারি, কিন্তু সে তোমার মুখের পানে চেয়ে, এমনি পারিনে । এইবার কমল মুখ তুলিয়া হাসিল, কহিল, তা হলে চেয়ে দেখুন, বলুন পারেন কি না । অজিতের চোখের দৃষ্টি জলিয়া উঠিল কহিল, তোমার কথাই সত্য, তাকে অবিশ্বাস করনি বলেই তার ফল দাড়াল এই ! দাড়িয়েতে মানি, কিন্তু আপনার তরফে সন্দেহ করার মুফল কি পরিমাণ হাতে পেলেন সেটাও খুলে বলুন ? এই বলিয়া সে পুনরায় একটুখানি হাসিয়া কাজে मन झेिल । Հ8 ծ