প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (নবম সম্ভার).djvu/২৬২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎসাহিত্য-সংগ্ৰন্থ কিন্তু চেয়ে দেখে, আমরা আগাগোড় টিকে আছি। বলিতে বলিতে সুবিমল হাস্তে তাহার সমস্ত মুখ বিকশিত হইয়া উঠিল । হরেক্স কহিল, সেইদিনই যেন আসে । কমল কহিল, অমন কথা বলতে নেই হরেনবাবু। অতবড় জাত যদি মাথা নীচু করে পড়ে, তার ধূলোয় জগতের অনেক আলোই স্নান হয়ে যাবে। মাছুষের সেটা দুদিন । হরেন্দ্র উঠিয় দাড়াইল । বলিল, তার এখনো দেরি আছে, কিন্তু নিজে ছুদিনের আভাস পাচ্চি। অনেক আলোই নিবু-নিবু হয়ে আসচে। পিতার কাছে নেবানোর কৌশলটাই জেনেছিলে কমল, জলাবার বিষ্ঠে শেখোনি । আচ্ছ চললাম । অজিতবাবুর কি বিলম্ব আছে ? অজিত উঠি উঠি করিল, কিন্তু উঠিল না । কমল বলিল, হরেনবাবু, আলো পথের ওপর না পড়ে চোখের ওপর পড়লে খানায় পড়তে হয় । সে আলো যে নেবায় তাকে বন্ধু বলে জানবেন। হরেন্দ্র নিশ্বাস ফেলিল, কহিল, অনেক সময় মনে হয়, তোমার সঙ্গে পরিচয় কুক্ষণে হয়েছিল। সে প্রত্যয়ের জোর আমার নেই, তবু বলতে পারি, যত বিচ্ছে, বুদ্ধি, জ্ঞান ও পুরুষকারের জৌলুস ওরা দেখাক ভারতের কাছে সে-সমস্তই অকিঞ্চিৎকর । কমল বলিল, এ যেন ক্লাশে প্রমোশান না-পাওয়া ছেলের এম-এ পাশ করাকে ধিক্কার দেওয়া। হরেনবাবু, আত্ম-মৰ্য্যাদাবোধ বলে যেমন একটা কথা আছে, বড়াইকরা বলেও তেমনি একটা কথা আছে । হরেজ ক্রুদ্ধ হইল, কহিল, কথা অনেক আছে। কিন্তু এই ভারতই একদিন লকল দিক দিয়েই জগতের গুরু ছিল, তখন অনেকের পূর্বপুরুষ হয়ত গাছের ডালে ডালে বেড়াতে । আবার এই ভারতবর্ষই আর একদিন জগতে সেই শিক্ষকের আসনই অধিকার করবে। করবেই করবে। কমল রাগ করিল না, হাসিল। বলিল, আজ তারা ডাল ছেড়ে মাটিতে নেবেচে । কিন্তু কোন মহা-অতীতে একজনের পূর্বপুরুষ পৃথিবীর গুরু ছিল এবং কোন মহাভবিষ্ণুতে আবার তার বংশধর পৈতৃক পেশা ফিরে পাবে এ আলোচনায় সুখ পেতে হলে অজিতবাবুকে ধরুন। আমার জনেক কাজ। হয়েঞ্জ বলিল, আচ্ছা, নমস্কার । আজ আসি। বলিয়া বিষয় গম্ভীর-মুখে নিজগন্ত হইয়া গেল। ૨૯૨