প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (নবম সম্ভার).djvu/২৬৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ولي يج আট-দশদিন পরে কমল আগুবাবুর বাটিতে দেখা করিতে আসিল। যাহাদের লইয়া এই আখ্যায়িক তাহদের জীবনের এই কয়দিনে একটা বিপৰ্য্যয় ঘটিয়া গেছে । অথচ আকস্মিকও নয়, অপ্রত্যাশিতও নয়। কিছুকাল হইতে এলো-মেলো বাতাসে ভালিয়া টুকরা মেঘের রাশি আকাশে নিরন্তর জমা হইতেছিল ; ইহার পরিণতি সম্বন্ধে বিশেষ সংশয় ছিল না, ঘটিলও তাই । ফটকের দরওয়ান অনুপস্থিত। বাটির নীচের বারান্দায় সাধারণতঃ কেহ বসিত না, তথাপি থানকয়েক চৌকি, সেজ ও দেওয়ালের গায়ে কয়েকটা বড়লোকের ছবি টাঙান ছিল, আজ সেগুলি অন্তৰ্হিত। শুধু ছাদ হইতে লম্বমান কালি-মাখান লণ্ঠনটা এখনও ঝুলিতেছে। স্থানে স্থানে আবর্জনা জমিয়াছে, সেগুলি পরিষ্কার করিবার আর বোধ হয় আবশ্বক ছিল না। কেমন একটা শ্ৰীহীন ভাব ; গৃহস্বামী যে পলায়নোন্মুখ তাহ চাহিলেই বুঝা যায়। কমল উপরে উঠিয়া আণ্ডবাবুর বসিবার ঘরে গিয়া প্রবেশ করিল। বেলা অপরাহের কাছাকাছি, তিনি আগেকার মতই চেয়ারে পা ছড়াইয় গুইয়া ছিলেন, ঘরে আর কেহ ছিল না, পর্দা সরানোর শব্দে তিনি চোখ মেলিয়া উঠিয়া বসিলেন। কমলকে বোধ হয় তিনি আশা করেন নাই ; একটু বেশিমাত্রায় খুশি হইয়া অভ্যর্থনা করিলেন, কমল যে ! এসে মা, এসো'। তাহার মুখের পানে চাহিয়া কমলের বুকে ঘা লাগিল—এ কি ! আপনাকে যে বুড়োর মত দেখাচ্ছে কাকাবাবু ? আশুবাবু হাসিলেন—বুড়ে ? সে তো ভগবানের আশীৰ্ব্বাদ কমল। ভেতরে ভেতরে বয়স যখন বাড়ে, বাইরে তখন বুড়ে না-দেখানোর মত দুর্ভোগ আর নেই। ছেলেবেলায় টাকপড়ার মতই করুণ । কিন্তু শরীরটাও তো ভাল দেখাচ্চে না । † না। কিন্তু আর বিস্তারিত প্রশ্নের অবকাশ দিলেন না, জিজ্ঞাসা করিলেন, তুমি কেমন আছ কমল ? ভাল আছি। আমার তো কখনো অস্থখ করে না কাকাবাবু। তা জানি। না দেহের, না মনের। তার কারণ তোমার লোভ নেই। কিছুই চীও মা বলে ভগবান জ্ব'হাতে চেলে দেন । আমাকে ? দিতে কি দেখলেন বলুন তো ? २¢७