প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (নবম সম্ভার).djvu/২৮২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎসাহিত্য-সংগ্ৰহ না, আমি এখান থেকেই বিদায় নেবো । আমার স্ত্রী পীড়িত। এত লোককে দেখেচেন, একবার তাকে দেখবেন না ? কমল কৌতুহলবশত: জিজ্ঞাসা করিল, তিনি কেমন দেখতে ? இ অক্ষয় কহিল, ঠিক জানিনে। আমাদের পরিবারে ও-প্রশ্ন কেউ করে না । বিয়ে দিয়ে ন’বছরের মেয়েকে বাবা ঘরে এনেছিলেন। লেখা-পড়া শেখবার সময় পায়নি, দরকারও হয়নি। রাধা-বাড়া, বার-ব্রত, পুজো-আহ্নিক নিয়ে আছেন ; আমাকেই ইহকাল-পরকালের দেবতা বলে জানে, অমুখ হলে ওষুধ খেতে চায় না, বলে স্বামীর পাদোদকেই সকল ব্যামো সারে। যদি না সারে বুঝবে স্ত্রীর আয়ু শেষ হয়েচে । ইহার একটুখানি আভাস কমল হরেন্দ্রর কাছে শুনিয়াছিল, কহিল, আপনি তো ভাগ্যবান, অন্ততঃ স্ত্রী-ভাগ্যে ! এতখানি বিশ্বাস এ-যুগে দুল্লভ। অক্ষয় কহিল, বোধ হয় তাই, ঠিক জানিনে। হয়ত একেই স্ত্রী-ভাগ্য বলে। কিন্তু মাঝে মাঝে মনে হয় যেন আমার কেউ নেই, সংসারে আমি একেবারে নিঃসঙ্গ একা । আচ্ছা, নমস্কার । কমল হাত তুলিয়া নমস্কার করিল। অক্ষয় এক পা গিয়াই ফিরিয়া দাড়াইয়া বলিল, একটা অনুরোধ ? করুন । যদি কখনো সময় পান, আর আমাকে মনে থাকে, একখানা চিঠি লিখবেন ? আপনি নিজে কেমন আছেন, অজিতবাবু কেমন আছেন, এই-সব। আপনাদের কথা আমি প্রায়ই ভাববো । আচ্ছ চললাম, নমস্কার। এই বলিয়া অক্ষয় ক্ষত প্রস্থান করিল ; এবং সেইখানে কমল স্তন্ধ হইয়া দাড়াইয়া রহিল। ভাল-মন্দর বিচার করিয়া নয়, শুধু এই কথাই তাহার মনে হইল যে, এই সেই অক্ষয় । এবং মামুষের জানার বাহিরে এইভাবে এই ভাগ্যবানের দাম্পত্য-জীবন নির্বিঘ্নে শাস্তিতে বহিয়া চলিয়াছে। একখানি চিঠির জন্ত তাহার কি কৌতুহল, কি সকাতর সত্যকার প্রার্থনা ! উপরে আসিয়া দেখিল নীলিমা ব্যতীত সবাই যথাস্থানে উপবিষ্ট। ইহাই নীলিমার স্বভাব, বিশেষ কেছ কিছু মনে করেন । আগুবাবু বলিলেন, হরেন্স একটি চমৎকার কথা বলছিলেন কমল। শুনলে হঠাৎ হেঁয়ালি বলে ঠেকে, কিন্তু বস্তুতাই সত্য। বলছিলেন, লোকে এইটিই বুঝতে পারে না যে, প্রচলিত সমাজ-বিধি লঙ্গৰ করার দুঃখ শুধু চরিত্র-বল ও বিবেক-বুদ্ধির জোরেই সহ যায়। মাছবে বাইরের ३११