প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (নবম সম্ভার).djvu/২৮৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শেষ প্রশ্ন অন্যায়টাই দেখে, অস্তরের প্রেরণার খবর রাখে না। এইখানেই যত দ্বন্দ্ব, যত বিরোধের সৃষ্টি ।

  • কমল বুবিল ইহার লক্ষ্য সে এবং অজিত। সুতরাং চুপ করিয়া রহিল। এ-কথা বলিল না যে, উচ্ছৃঙ্খলতার জোরেও সমাজ-বিধি লঙ্ঘন করা যায়। দুৰ্ব্বদ্ধি ও বিবেকবুদ্ধি এক পদার্থ নয়।

বেলা ও মালিনী উঠি এাড়াইল, তাহদের যাইবার সময় ইয়াছে। কমলকে সম্পূর্ণ অগ্রাহ করিয়া তাহারা হরেন্দ্র ও আগুবাবুকে নমস্কার করিল। এই মেয়েটির সম্মুখে সৰ্ব্বক্ষণই তাহারা নিজেদের ছোট মনে করিয়াছে, শেষবেলায় তাহার শোধ দিল উপেক্ষ দেখাইয়া । চলিয়া গেলে আগুবাবু সঙ্গেহে কহিলেন, কিছু মনে ক’রে না মা, এ-ছাড়া ওঁদের আর হাতে কিছু নেই। আমিও তো ওই দলের লোক । সবই জানি। 鱷 আপ্তবাবু হরেন্দ্রর সাক্ষাতে আজ এই প্রথম তাহাকে মা বলিয়া ডাকিলেন, কহিলেন, দৈবাৎ ওঁর পদস্থ ব্যক্তিদের ভাৰ্য্যা । হাই-সার্কেলের মানুষ। ইংরিজি বলা-কওয়া, চলা-ফেরা বেশ-ভূষায় আপ-টু-ডেট। এটুকু ভুললে যে ওদের একেবারে পুজিতে ঘা পড়ে কমল । রাগ করলেও ওদের প্রতি অবিচার হয়। কমল হাসিমুখে কহিল, রাগ তো করিনি। আশুবাবু বলিলেন, করবে না তা জানি। রাগ আমাদেরও হ'লে না, শুধু হাসি পেলো। কিন্তু বাসায় যাবে কি করে মা, আমি কি তোমাকে পৌছে দিয়ে বাড়ি যাবো ? বাঃ, নইলে যাবো কি করে ? পাছে লোকের চোখে পড়ে এই ভয়ে সে নিজেদের মোটর ফিরাইয়া দিয়াছিল। বেশ, তাই হবে । কিন্তু আর দেরি করাও হয়ত উচিত হবে না, কি বলে ? সকলেরই স্মরণ হইল যে, তিনি আজও সম্পূর্ণ সারিয় ওঠেন নাই। সিড়িতে জুতার শব্দ শুনা গেল এবং পরক্ষণে সকলে পরম বিস্ময়ে নিরীক্ষণ করিল যে, স্বারের বাহিরে আসিয়া অজিত দাড়াইয়াছে। হরেক্স কলকণ্ঠে অভ্যর্থনা করিল, হালো ! বেটার লেট দ্যান নেভার। একি সৌভাগ্য ব্রহ্মচৰ্য্যাশ্রমের! অজিত অপ্রতিত হইয়া বলিল, নিতে এলাম। এবং চক্ষের পলকে একটা অভাবিত দুঃসাহসিকতা তাহার ভিতরের কথাগুলো সজোরে ঠেলিয়া গলা দিয়া ৰাছির করিয়া দিল । কহিল, নইলে তো আর লেখা হ’তো না। আমরা আজি তোর-রাত্রেই দু’জনে চলে যাচ্চি । ኟጥ©