প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (নবম সম্ভার).djvu/২৮৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শেষ প্রশ্ন আমি নই। পলকমাত্র আশুবাবুর দিকে চাহিয়া কহিল, ভগবান তো মানিনে, নইলে প্রার্থনা করতাম দুনিয়ার সকল আঘাত থেকে তোমাকে আড়ালে রেখেই একদিন যেন আমি মরতে পারি। নীলিমার দুই চক্ষে জল আসিয়া পড়িল । আগুবাবু নিজেও বাষ্পাকুল চক্ষু মুছিয়া ফেলিলেন, গাঢ়স্বরে বলিলেন, তোমার ভগবান মেনেও কাজ নেই কমল। ঐ একই কথা মা। এই আত্মসমর্পণ একদিন তোমাকে তার কাছে সগৌরবে পৌছে দেবে। কমল হাসিয়া বলিল, সে হবে আমার উপরি পাওনা। স্থায্য পাওনার চেয়েও তার মান বেশি । সে ঠিক কথা মা । কিন্তু জেনে রেখো, আমার আশীৰ্ব্বাদ নিম্ফলে যাবে না। হরেঞ্জ বলিল, অজিত, খেয়ে তো অাসোনি, নীচে চল । o আগুবাবু সহাস্তে কহিলেন, এমনি তোমার বিদ্যে ও খেয়ে আসেনি, আর কমল এখানে বসে খেয়ে-দেয়ে নিশ্চিন্ত হ’লো—যা ও কখনো করে না । অজিত সলজে স্বীকার করিয়া জানাইল, কথাটা তাই বটে। সে অভুক্ত আসে नांद्दे । এইটি শেযের রাত্রি স্মরণ করিয়া সভা ভাঙিয়া দিবার কাহারও ইচ্ছা ছিল না, কিন্তু আগুবাবুর স্বাস্থ্যের দিকে চাহিয়া উঠিবার আয়োজন করিতে হইল। হরেন্দ্র কমলের কাছে আসিয়া খাটো করিয়া বলিল, এতদিনে আসল জিনিসটি পেলে, কমল, তোমাকে অভিনন্দন জানাই । কমল তেমনি চুপি চুপি জবাব দিল, পেয়েচি ? অন্ততঃ সেই আশীৰ্ব্বাদই করুন। হরেন্দ্র আর কিছু লিল না। কিন্তু কমলের কণ্ঠস্বরে সেই দ্বিধাহীন পরম নিঃসংশয় সুরটি যে বাজিল না তাহাও কানে ঠেকিল। তবু এমনিই হয়। বিশ্বের এমনিই বিধান । স্বারের আড়ালে ডাকিয়া নীলিমা চোখ মুছিয়া বলিল, কমল, আমাকে ভুলে না যেন । ইহার অধিক সে বলিতে পারিল না । কমল হেঁট হইয়া নমস্কার করিল। বলিল, দিদি, আমি আবার আসব, কিন্তু যাবার আগে আপনার কাছে একটি মিনতি রেখে যাব ; জীবনের কল্যাণকে কখনো অস্বীকার করবেন না । তার সত্য রূপ আনন্দের রূপ । এই রূপে সে দেখা দেয়, তাকে আর কিছুতেই চেনা যায় না। আর যাই কেন না কর দিদি, অবিনাশবাবুর ঘরে আর বেগার খাটতে রাজি হয়ে না। ՀԳ(; ఫి=చి