প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (নবম সম্ভার).djvu/৩০৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য সংগ্ৰহ রাগ করে ঘরে এসে গুয়ে পড়লুম বটে, কিন্তু এইবার সমস্ত জিনিসটা মনে মনে আলোচনা করে লজ্জায় যেন মাথা কাটা যেতে লাগল। কেবলই মনে হতে লাগল, র্তার খাওয়া হয়নি বলে খাইনি, তার কথা নিয়ে ঝগড়া করেচি, ফিরে এসে, এ-সব যদি তার কানে যায় ? ছিছি ! কি ভাববেন তিনি ! আমার এতদিনের আচরণের সঙ্গে এ ব্যবহার এমনি বিসদৃশ খাপছাড়া যে নিজের লজ্জাতেই নিজে মরে যেতে লাগলুম। কিন্তু বঁাচলুম, ফিরে এলে এ-কথা কেউ তাকে শোনালে না । সত্যিই বাঁচলুম, এর একবিন্দু মিছে নয়, কিন্তু আচ্ছ, একটা কথা যদি বলি, তোমরা বিশ্বাস করতে পারবে কি ? যদি বলি, সে-রাত্রে পরিশ্রান্ত স্বামী শয্যার উপর ঘুমিয়ে রইলেন, আর নীচে যতক্ষণ না আমার ঘুম এল, ততক্ষণ ফিরে ফিরে কেবলই সাধ হতে লাগল, কেউ যদি কথাটা ওঁর কানে তুলে দিত, অভুক্ত স্বামীকে ফেলে আজ আমি কিছুতে খাইনি, এই নিয়ে ঝগড়া করেচি, তবু মুখ বুজে এ অন্যায় সহ করিনি, কথাটা তোমাদের বিশ্বাস হবে কি ? না হলে তোমাদের দোষ দেব না, হলে বহুভাগ্য বলে মানব। আজ আমার স্বামীর বড় ত ব্ৰহ্মাণ্ডে আর কিছুই নেই, তার নাম নিয়ে বলচি, মামুষের মন-পদার্থটার যে অন্ত নেই, সেইদিন তার আভাষ পেয়েছিলুম। এতবড় পাপিষ্ঠার মনের মধ্যেও এমন দুটে উণ্টে স্রোত একসঙ্গে বয়ে যাবার স্থান হতে পারে দেখে তখন অবাক্ হয়ে গিয়েছিলুম। মনে মনে বলতে লাগলুম, এ যে বড় লজ্জার কথা ! নইলে এখুনি ঘুম থেকে জাগিয়ে বলে দিতুম, শুধু স্বষ্টিছাড়া ভালোমানুষ হলেই হয় না, কৰ্ত্তব্য করতে শেখাও দরকার। যে স্ত্রীর তুমি একবিন্দু খবর নাও না, সে তোমার জন্তে কি করেচে একবার চোখ মেলে দেখ । হা রে পোড়া কপাল ! খাদ্যোৎ চায় স্বৰ্য্যদেবকে আলো ধরে পথ দেখাতে ! তাই বলি, হতভাগীর স্পৰ্দ্ধার কি আর আদি-অন্ত দাওনি ভগবান ! গরমের জন্তে কি না বলতে পারিনে, ক’দিন ধরে প্রায়ই মাথা ধরছিল। দিন-পাচেক পরে অনেক রাত্রি পর্য্যন্ত ছটফট করে কখন একটু ঘুমিয়ে পড়েছিলুম। ঘুমের মধ্যেই যেন মনে হচ্ছিল, কে পাশে বসে ধীরে ধীরে পাখার বাতাস করচে । একবার ঠক্ করে গায়ে পাখাটা ঠেকে যেতে ঘুম ভেঙে গেল। ঘরে আলো জলছিল, চেয়ে দেখলুম স্বামী। s রাত জেগে বসে পাখার বাতাস করে আমাকে ঘুম পাড়াচ্ছেন । হাত দিয়ে পাখাটা ধরে ফেলে বললুম এ তুমি কি করচ ? তিনি বললেন, কথা কইতে হবে না, ঘুমোও, জেগে থাকলে মাখাধরা ছাড়বে না । also ૨ ગઝ