প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (নবম সম্ভার).djvu/৩১০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎসাহিত্য-সংগ্ৰহ শাশুড়ীঠাকরুণ সেইদিন থেকে আমার ওপর যে কড়া নজর রাখছিলেন, সে আমি টের পেতুম। আমিও ভেবেছিলুম, মরুক গে, আমি কোন কথায় আর থাকব না। তা ছাড়া দু’দিন আসতে না আসতে স্বামীর খাওয়া-পরা নিয়ে ঝগড়া—ছি ছি, লোকে শুনলেই বা বলবে কি ? কিন্তু কবে যে এর মধ্যেই আমার মনের ওপর দাগ পড়ে গিয়েছিল, কবে যে র্তার খাওয়া-পরা নিয়ে ভিতরে ভিতরে উৎসুক হয়ে উঠেছিলুম সে আমি নিজেই জানতাম না । তাই দুটোদিন যেতে-না-যেতেই আবার একদিন ঝগড়া করে ফেললুম। ■ আমার স্বামীর কে একজন আড়তদার বন্ধু সেদিন সকালে মস্ত একটা রুইমাছ পাঠিয়েছিলেন। স্নান করতে পুকুরে যাচ্ছি, দেখি বারান্দার ওপর সবাই জড় হয়ে কথাবার্তা হচ্ছে। কাছে এসে দাড়ালুম, মাছ কোটা হয়ে গেছে। মেজজ তরকারি কুটচেন, শাশুড়ী বলে বলে দিচ্ছেন ; এটা মাছের ঝোলের কুটনো, ওটা মাছের ডালনার কুটনো, ওটা মাছের অম্বলের কুটনো, এমনিই সমস্ত প্রায় আঁস-রান্না। আজ একাদশী, তার এবং বিধবা মেয়ের খাবার হাঙ্গামা নেই, কিন্তু আমার স্বামীর জন্যে কোন ব্যবস্থাই দেখলুম না। তিনি বৈষ্ণবমামুষ, মাছ-মাংস ছুতেন না। একটু ডাল, দুটো ভাজাভুজি, একটুখানি অম্বল হলেই তার খাওয়া হ’ত । অথচ ভাল খেতেও তিনি ভালবাসতেন। এক-আধদিম একটু ভাল তরকারি হলে তার আহলাদের সীমা থাকত না, তাও দেখেচি । বললুম, ওঁর জন্তে কি হচ্ছে মা ? শাশুড়ী বললেন, আজ আর সময় কৈ বৌমা ? তার জন্তে দুটো আলু-উচ্ছে ভাতে দিতে বলে দিয়েচি, তার পর একটু দুধ দেব’খন। বললুম, সময় নেই কেন মা ? 耻 শাগুড়ী বিরক্ত হয়ে বললেন, দেখতেই ত পাচ্ছ বৌমা ! এতগুলো আঁস-রান্না হতেই ত দশটা-এগারটা বেজে যাবে। আজ আমার অখিলের ( মেজদেওর ) দু-চারজন বন্ধু-বান্ধব খাবে, তার হ’ল সব অপিসার মানুষ, দশটার মধ্যে খাওয়া না হলে পিত্তি পড়ে, সারাদিন আর খাওয়াই হবে না । এর ওপর আবার নিরামিষ রান্না করতে গেলে ত রাধুনী বঁাচে না ।' আর প্রাণটাও ত দেখতে হবে বাছা! রাগে সৰ্ব্বাঙ্গ রি রি করে জলতে লাগল। তবু কোনমতে আত্মসংবরণ করে বললুম, আলু-উচ্ছে-ভাতে দিয়ে কি কেউ খেতে পারে? একটুখানি ডাল রাধবারও কি সময় হ’ত না ? Woe e