প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (নবম সম্ভার).djvu/৩১৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


श्रांभौ তিনি ফিরে দাড়িয়ে বললেন, তা হলে গুরুজনের সঙ্গে বিবাদ করাই বুঝি তোমার কৰ্ত্তব্য ? সে যদি হয়, যেদিন ইচ্ছে বাপের বাড়ি যাও, আমাদের কোন আপত্তি নেই। " * স্বামী চলে গেলেন, আমি সেইখানেই ধপ, করে বসে পড়লুম। মুখ দিয়ে শুধু আমার বার হ’ল, হায় রে! যার জন্তে চুরি করি, সেই বলে চোর ! সমস্ত সকালটা যে আমার কি করে কাটল, সে আমিই জানি। কিন্তু দুপুরবেলা স্বামীর মুখ থেকেই যে কথা শুনলুম তাতে বিস্ময়ের আর অবধি রইল না । খেতে বসিয়ে শাশুড়ী বললেন, কাল তোমাকে বলিনি বাছা, কিন্তু এ বেী নিয়ে ত আমি ঘর করতে পারিনে ঘনশ্যাম । কালকের কাও ত গুনেচ ? স্বামী বললেন, শুনেচি মা। শাশুড়ী বললেন, ত হলে যা হোক এর একটা ব্যবস্থা কর। স্বামী একটুখানি হেসে বললেন, ব্যবস্থা করার মালিক ত তুমি নিজেই মা । শাশুড়ী বললেন, তা কি আর পারিনে বাছা, একদিনেই পারি। এতবড় ধাষ্ট্রী মেয়ে, আমার ত বিয়ে দিতেই ইচ্ছে ছিল না —শুধু— স্বামী বললেন, সে-কথা ভেবে আর লাভ কি মা ! আর ভালোমন্দ যাই হোক, বাড়ির বড়বেীকে ত আর ফেলতে পারবে না। ও চায়, আমি একটু ভাল খাই-দাই । ভাল, সে ব্যবস্থাই কেন করে দাও না মা ! শাশুড়ী বললেন, অবাকু করলি ঘনশ্বাম! আমি কি ভালোমন্দ খেতে দিতে জানিনে যে আজ ও এসে আমাকে শিখিয়ে দেবে ? আর তোমারই বা দোয় কি বাবা ! অতবড় বেী যেদিন এসেচে, সেইদিনই জানতে পেরেচি, সংসার এবার ভাঙল। তা বাছা, আমার গিল্লিপনায় আর না যদি চলে, ওর হাতেই না হয় ভাড়ারের চাবি দিচ্চি। কৈ গা, বড়বেীমা, বেরিয়ে এস গো, চাবি নিরে যাও । বলে শাশুড়ী ঝনাৎ করে চাবির গোছাট রান্নাঘরের দাওয়ার উপর ফেলে দিলেন । স্বামী আর একটি কথাও ৰইলেন না ; মুখ বুজে ভাত খেযে বাইরে যাবার সময় বলতে বলতে গেলেন, সব মেয়েমানুষের ঐ এক রোগ, কাকেই বা কি বলি ! আমার বুকের মধ্যে যেন আহলাদের জোয়ার ডেকে উঠল। আমি যে কেন ঝগড় করেচি, তা উনি জানতে পেরেচেন, এই কথাটা শতবার মুখে আবৃত্তি করে সহস্ৰ রকমে মনের মধ্যে অনুভব করতে লাগলুম। সকালের সমস্ত ব্যথা আমার যেন ধুয়ে মুছে গেল । VS) sú: