প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (নবম সম্ভার).djvu/৩৭১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


নারীর মূল্য হয় ? কোন স্মৃতিরত্বের এ আলোচনা করিবার ধৈর্য্য এবং সাহস আছে ? নিজের দলটি ছাড়া ইহাদের কাছে সবাই ম্লেচ্ছ, সবাই অগুচি ৷ নিজেদের মতটি ছাড়া সমস্তই অশাস্ত্রীয় ! নিজেদের আচার-ব্যবহার ভিন্ন জগতের সমস্ত আচারব্যবহারই কদৰ্য্য এবং হীন । এক কথায় নিজের ছাড়া আর কেহ মানুষই নয়। কালের সঙ্গে সঙ্গে যে নিয়মও বদলায়, এ সত্যের ইহারা কোন ধার ধারে না । তাই সময়োপযোগী কোন একটা নূতন পন্থা অবলম্বনের চেষ্ট হইবামাত্রই ইহারা ভয়ে সারা হইয়া যায়। কঁদ-কঁাদ হইয়া জানায় শাস্ত্রের শ্লোকে খুজিয়া মিলিতেছে না, এবং প্রাণপণে বাধা দিয়া মনে করে দেশের উপকার হইতেছে—শাস্ত্র বজায় হইতেছে। অথচ ইহারাই কি সমস্ত শাস্ত্র মানিয়া চলে ? শাস্ত্রে আছে, রাক্ষস-বিবাহ । শাস্ত্রে আছে, অমুর-বিবাহ। শাস্ত্রে আছে, ক্ষেত্রজ সন্তানের বিধি। আধুনিক সমাজে এইগুলা মুরু হইয়া গেলে ইহারাই কি ভাল মনে করে? অথচ কেন করে না, জিজ্ঞাসা করিলেও ঠিক-মত জবাব দিতে পারে না, তখন ঘুরাইয়া ফিরাইয়া নানারকম করিয়া বলিবার চেষ্টা করে, দেশাচার নয়—তেমন আবশ্যকও নয়— ভাল নয়-মানুষের নৈতিক বুদ্ধি অমুমোদন করে না, ইত্যাদি ইত্যাদি। অর্থাৎ এ-কথা শাস্ত্রে থাকে থাকৃ, আর একটা শাস্ত্রের উণ্ট শ্লোকও ত আছে। গান্ধৰ্ব্ববিবাহ, ক্ষেত্রজ সন্তানাদি নিজেদের সংসারে যখন কোনমতেই পছন্দ করি না, তখন আর কেহ করিলেও যত পারিব তত গালি দিব । পছন্দ করি না’ এইটাই আসল কথা । বাস্তবিক কোন শাস্ত্রই পুরুষে অধিক দিন মানিয়া চলে না, যদি না তাহ তাহীদের আন্তরিক অভিপ্রায়ের সহিত মিশ থায় । মিশ খাইলে তখনই সেটা টিকসই হয়, অন্যথা স্বয়ং ভগবান রাস্তায় দাড়াইয়া নিজের মুখে চেচাইয়া বলিয়া গেলেও হয় না । হইতে পারে, অবস্থা-বিশেষে এই শাস্ত্র কাহারও বা দুঃখ উপস্থিত করে, কিন্তু সাধারণ ইচ্ছার চাপে এ দুঃখ স্থায়ী হইতে ত পায়ই নাই, পরন্তু দুঃখ উৎকৃষ্টতর ধৰ্ম্মের আকার ধরিয়া পরলোকে শতগুণ মুখের আশ্বাস দিয়া পরিতৃপ্ত করিয়া যায়। পুরুষের ক্ষণিক দু:খ ক্ষণিকেই শেষ হয়, কিন্তু চির-দুঃখ যাহাকে সহিতে হয়, সে নারী । আমাদের দেশে পূজাৰ্হা নারীর পূজার ব্যবস্থা দেখিয়াছি। তথাপি ইহাকেই আদর্শ বলিয়া যে পুরুষ শ্লাঘা বোধ করেন তাহাকে আমার কিছুই বলিবার নাই। বিদেশের ব্যবস্থাও দেখিয়াছি, সেখানেও ঐ ব্যাপার। চার-পাচ হাজার বৎসর পূৰ্ব্বেকার লুপ্ত আইন-কায়নের একটা ধারায় সামাজিক ব্যবস্থা লেখা আছে– “if a wife hates her husband and says, “thou art not my husband', into ○や〉