প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (নবম সম্ভার).djvu/৪৩১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অপ্রকাশিত রচনাবলী শিবরতন কহিলেন, তার পরে ? মেয়ে বলিল, ন’খুড়ীমা মুখ বুজে ঋণট দিচ্ছিলেন, স্বমুখে ন’কাকার জুতাজোড়াটা ছিল, তাই পা দিয়ে শুধু ফেলে দিয়েছিলেন। শিবরতন প্রশ্ন করিলেন, তার পরে ? গিরি কহিল, এক পাটি জুতো ছিটকে এসে ঠাকুরমার পায়ের কাছে পড়েছিল। শিবরতন শুধু কহিলেন, হ!—মায়ের প্রতি চাহিয়৷ বলিলেন, ভেতরে যাও মা ! এর বিচার যদি না হয় ত তখন কাণীতেই চলে যেয়ো । একে একে ধীরে ধীরে সবাই প্রস্থান করিল, শুধু কেবল তিন ভাই সেইখানে স্তন্ধ হইয়া বসিয়া রহিলেন। ভূত্য তামাক দিয়া গেল, কিন্তু সে শুধু পুড়িতেই লাগিল, শিবরতন স্পর্শ করিলেন না। প্রায় আধ ঘণ্টাকাল এইভাবে নিঃশব্দে বসিয়া থাকিয অবশেষে মুখ তুলিয়া বলিলেন, বিভূতি ? বিভূতি সসন্ত্রমে কহিল, আজ্ঞে ? শিবরতন বলিলেন, তোমার স্ত্রীর শাস্তি তুমি ছাড়া আর কারও দেবার অধিকার নেই। বিভূতি আশঙ্কায় পরিপূর্ণ হইয়া ক্ষীণ-কণ্ঠে বলিল, আজ্ঞ করুন। শিবরতন বলিলেন, ঐ জুতো তোমার স্ত্রীর মাথায় তুমি তুলে দেবে। উঠানের মাঝখানে তিনি মাথায় নিয়ে সমস্ত বেলা দাড়িয়ে থাকবেন । তোমার উপর এই আমার আদেশ । আদেশ শুনিয়া বিভূতির মাথার মধ্য দিয়া বিদ্যুৎ বহিয়া গেল। তাহার শ্বশুর-শাশুড়ীর মুখ, শালী-শালাজদের মুখ, চাকরীর মুখ, স্ত্রীর মুখ, সমস্ত একই সঙ্গে মনে পড়িয়া মুখখান ভযে ভাবনায় বিবর্ণ হইয়া উঠিল ; সে জড়িত-কণ্ঠে কহিতে চাহিল,—কিন্তু দাদা, দোষের বিচার না করেই— শিবরতন শাস্ত-স্বরে কহিলেন, ম৷ অত্যন্ত অপমানিত বোধ করেচেন, এ তোমরাও দেখলে। তার কি দোয, কতখানি দোষ, এ বিচারের ভার আমার ওপর নেই। যাদের বিচার করতে পারি তাদের প্রতি আমার এই আদেশ রইল। এখন কি করবে সে তুমি জানে । বিভূতি কহিল, আপনার হুকুম চিরদিন মাথায় বয়ে এসেচি দাদা, কোনদিন কোন স্বাধীনতা পাইনি। আজও তাই হবে, কিন্তু—— এই কিন্তুটা সেও শেষ করিতে পারিল না, শিবরতনও নীরবে অধোমুখে বসিয়া রছিলেন 8&>