প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (নবম সম্ভার).djvu/৪৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শেষ প্রশ্ন হাসিতে লাগিল। অবিনাশ নিজেও না হাসিয়া পারিলেন না, কহিলেন, এ-ক্ষেত্রে অপরাধ হবে না। আমরা এতগুলি লোকে মিলে তোমাকে অনুরোধ করচি তুমি বল। কমল বলিল, আপ্তবাবুকে আজ নিয়ে শুধু দুটি দিন দেখতে পেয়েচি, কিন্তু এর । মধ্যেই মনে মনে ওঁকে আমি ভালবেসেচি। এই বলিয়া শিবনাথকে দেখাইয়া কহিল, এখন বুঝতে পারচি উনি কেন আমাকে বলতে নিষেধ করেছিলেন। আগুবাবু নিজেই তাহাতে বাধা দিলেন, বলিলেন, কিন্তু আমার দিক থেকে তোমার কুষ্ঠা বোধ করবার কোন কারণ নেই। বুড়ে আশু বন্তি বড় নিরীহ মানুষ কমল, তাকে মাত্র দুটি দিন দেখেই অনেকটা ঠাওর করেচ, আরও দিন-দুই দেখলেই বুঝবে তাকে ভয় করার মত ভুল আর সংসারে নেই। তুমি স্বচ্ছন্দে, বল, এসব কথা গুনতে আমার সত্যিই আনন্দ হয়। কমল কহিল, কিন্তু ঠিক এইজন্যই ত উনি বারণ করেছিলেন, আর এইজন্তই অবিনাশবাবুর কথার উত্তরে এখন আমার বলতে বাধচে যে, নর-নারীর প্রেমের ব্যাপারে একে আমি বাদ বলেও মনে করিনে, আদর্শ বলেও মানিনে । , অক্ষয় কথা কহিল। তাহার প্রশ্নের ভঙ্গিতে শ্লেষ ছিল, বলিল, খুব সম্ভব আপনার মানেন না, কিন্তু কি মানেন একটু গুনতে পাই কি ? কমল তাহার প্রতি চাহিল, কিন্তু তাহাকেই যে উত্তর দিল তাহ নয়। বলিল, একদিন স্ত্রীকে আগুবাবু ভালবেসেছিলেন, কিন্তু তিনি আর বেঁচে নেই। তাকে দেবারও কিছু নেই, তার কাছে পাবারও কিছু নেই। তাকে সুখী করাও যায় না, দুঃখ দেওয়াও যায় না। তিনি নেই। ভালবাসার পাত্র গেছে নিশ্চিহ্ন হয়ে মুছে, আছে কেবল একদিন যে র্তাকে ভালবেসেছিলেন সেই ঘটনাটা মনে । মানুষ নেই, আছে স্মৃতি। তাকেই মনের মধ্যে অহরহ পালন করে, বর্তমানের চেয়ে অতীতটাকে ধ্রুব জ্ঞানে জীবনযাপন করার মধ্যে যে কি বড় আদর্শ আছে আমি ত ভেবে পাইনে। কমলের মুখের এই কথাটায় আণ্ডবাবু পুনরায় আঘাত পাইলেন। বলিলেন, কমল, কিন্তু আমাদের দেশের বিধবাদের হাতে ত শুধু এই জিনিসটিই থাকে চরম সম্বল। স্বামী যায়, কিন্তু তার স্কৃতি নিয়েই ত বৈধব্য-জীবনের পবিত্রতা অব্যাহত থাকে। কি, তুমি মানো না ? কমল বলিল, না। একটি বড় নাম দিলেই ত কোন জিনিস সংসারে সত্যিই বড় হয়ে যায় না। বরঞ্চ বলুন এইভাবে এদেশের বৈধব্য-জীবন কাটানই বিধি, বলুম একটা মিথ্যেকে সত্যের গৌরব দিয়ে লোকে তারপর্ক আসচে–আমি অস্বীকার করব না । g)* * to آباد مص