প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (নবম সম্ভার).djvu/৬৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎসাহিত্য-সংগ্ৰহ অজিত কহিল, তা হতে পারে। * কমল কহিল, নিশ্চয়। অথচ এর বিপদ আছে। যারা চড়ে তাদেরও, আর যার চাপা পড়ে তাদেরও, না ? অজিত কহিল, না, চাপা পড়বে কেন ? Ç কমল কহিল, পড়লেই বা অজিতবাবু। ত্রুতবেগের ভারি একটা আনন্দ আছে। গাড়ীরই বা কি, আর এই জীবনেরই বা কি। কিন্তু যারা ভীতু লোক তারা পারে না। সাবধানে ধীরে ধীরে চলে। ভাবে পথ হাটার দুঃখটা যে বঁাচলে এই তাদের ঢের। পথটাকে ফাকি দিয়েই তারা খুশি, নিজেদের ফাকিটা টেরও পায় না। ঠিক না অজিতবাবু ? * কথাটা অজিত বুঝিতে পারিল না, বলল, এর মানে ? কমল তাহার মুখের পানে চাহিয়া একটুখানি হাসিল। ক্ষণেক পরে মাথা নাড়িয়া বলিল, মানে নেই, এমনি। কথাটা সে যে বুঝাইয়া বলিতে চাহে না, এইটুকু বুঝা গেল, আর কিছু না । অন্ধকার গাঢ়তর হইয়া আসিতেছে। অজিত ফিরিতে চাহিল, কমল কহিল, এরই মধ্যে ? চলুন আর একটু যাই । অজিত কহিল, অনেকদূরে এসে পড়েচি, ফিরতে রাত হবে। কমল বলিল, হ’লই বা । কিন্তু শিবনাথবাবু হয়ত বিরক্ত হবেন। কমল জবাব দিল, হলেনই বা । অজিত মনে মনে বিস্মিত হইয়া বলিল, কিন্তু আগুবাবুদের গাড়ী ফিরিয়ে নিয়ে যেতে হবে । বিলম্ব হলে ভাল হবে না । * . কমল প্রত্যুত্তরে কহিল, আগ্রা সহরে ত গাড়ীর অভাব নেই, তারা অনায়াসে যেতে পারেন। চলুন আরো একটু। এমনি করিযা কমল যেন তাহাকে জোর করিয়াই নিরন্তর সম্মুখের দিকে ঠেলিয়া লইয়া যাইতে লাগিল। ক্রমশ: লোকবিরল পথ একান্ত জনহীন ও রাত্রির অন্ধকার প্রগাঢ় হইয়া উঠিল, চারিদিকের দিগন্ত-বিস্তৃত প্রান্তর নিরতিশয় স্তব্ধ। অজিত হঠাৎ একসময়ে উদ্বিগ্নচিত্তে গাড়ীর গতিরোধ করিয়া বলিল, আর না, ফিরে চলুন। কমল কহিল, চলুন। ফিরিবার পথে সে ধীরে ধীরে বলিল, ভাবছিলাম মিথ্যার সঙ্গে রক্ষা করতে গিয়ে জীবনের কত অমূল্য সম্প্য ন মানুষ নষ্ট করে। আমাকে একদা নিয়ে যেতে 48