প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (নবম সম্ভার).djvu/৯৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শেষ প্রশ্ন আপ্তবাবু হাসিবার চেষ্টা করিয়া বলিলেন, বাড়িতেও ত আমি একাই বলে থাকতাম, তবু সময়ট কাটল । মালিনী কহিল, সে এর চেয়ে ভাল ছিল। একটু থামিয়া কছিল, আজ উনি নেই, মণি এখান থেকে খেয়ে যাবে। বেশ, আমি ফিরে গিয়ে গাড়ী পাঠিয়ে দেব। কিন্তু আর সব মেয়ের ? র্তারাও আজ এখানেই খাবেন। অবিনাশ অজিতকে সঙ্গে লইয়া আগুবাবু গাড়ীতে উঠিতে যাইতেছেন, হরেন্দ্র ও অক্ষয় আসিয়া উপস্থিত হইল। তাহদের পৌছাইয়া দিতে হইবে। রাজী হইতে হইল, সমস্ত পথটা আগুবাবু নীরবে বসিয়া রছিলেন। কমলকে উপলক্ষ করিয়া মেয়েদের মাঝখানে অক্ষয় তাকে অশিষ্ট কটাক্ষ করিয়াছে এই কথা তাহার নিজের মনে পড়িতে লাগিল । গাড়ী আসিয়া বাসায় পৌছিল। নীচের বারান্দায় একজন অপরিচিত ভদ্রলোক বসিয়া ছিল, বোম্বাই-ওয়ালার মত তাহার পোষাক, কাছে আসিয়া আগুবাবুকে অভিবাদন করিল। কি ? জবাবে সে একটুকরা কাগজ তাহার হাতে দিয়া কহিল, চিঠি। চিঠিখানি তিনি অজিতের হাতে দিলেন, অজিত মোটরের ল্যাম্পের আলোকে পড়িয়া দেখিয়া কহিল, চিঠি কমলের। কমলের ? কি লিখেচে কমল ? লিখেচেন পত্রবাহকের মুখে সমস্তই জানতে পারবেন। আপ্তবাবু জিজ্ঞামু-মুখে তাহার প্রতি চাহিতেই সে কছিল, এ পত্র আর কারে হাতে পড়ে তার ইচ্ছা ছিল না। আপনি তার আত্মীয়—আমি কিছু টাকা পাই— কথাটা শেষ হইতে পাইল না, আগুবাবু সহসা অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হইয়া উঠিলেন, বলিলেন, আমি তার আত্মীয় নই, বস্তুতঃ সে আমার কেউ নয়। তার হয়ে আমি টাকা দিতে যাব কিসের জন্ত ? গাড়ীর উপর হইতে অক্ষয় কহিল, just like her! কথাটা সকলেরই কানে গেল। পত্রবাহক ভদ্রলোক অপ্রতিভ হইয়া কহিল, টাকা আপনাকে দিতে হবে না, তিনিই দেবেন। আপনি শুধু কিছুদিনের জামিন হলে— আপ্তবাবুর রাগ চড়িয়া গেল—বলিলেন, জামিন হওয়ার গরজ আমার নয়। র্তার স্বামী আছেন, ধারের কথা তাকে জানাবেন। ነፃ