প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার).djvu/১৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ জীবানন্দ কহিলেন, তা হ’লে সত্যি। আচ্ছা, এই লোকটাই কি বছর-পাঁচেক পূৰ্ব্বে একটা প্রজা-উৎখাতের মামলায় মামার বিপক্ষে সাক্ষী দিয়েছিল ? এককড়ি মস্ত একটা মাথার বাকনি দিয়া বলিল, হুজুরের নজর থেকে কিছুই এড়ায় না । আজ্ঞে, এই সেই তারাদাস । জীবানন্দ ধীরে ধীরে মাথা নাড়িয়া কহিলেন, হু । সেবার অনেক টাকার ফেরে ফেলে দিয়েছিল । এরা কতখানি জমি ভোগ করে ? এককড়ি মনে মনে হিসাব করিয়া বলিল, পঞ্চাশ-ষাট বিঘের কম নয়। জীবানন্দ মুহূৰ্ত্তকাল মৌন থাকিয়া কহিলেন, কাল তুমি নিজে গিয়ে একে জানিয়ে এসে যে বিধে পিছু দশ টাকা আমার নজর চাই। আমি আট দিন আছি । এককড়ি কুষ্ঠিত এবং সঙ্কুচিত হইয়া কহিল, আজ্ঞে, সে যে নিষ্কর দেবে{ভর হুজুর । না, দেবোত্তর এ গায়ে এক ফোটা নেই। সেলামী না পেলে সমস্ত বাজেয়াপ্ত হয়ে যাবে । এককড়ি নিরুত্তরে দাড়াইয়া রহিল। সে চক্ৰবৰ্ত্তী মহাশয়ের জন্য নয়, তাহার কন্যা কাটখোট্টা ষোড়শী ভৈরবীর কথাই স্মরণ করিয়া। জমিদার ত একদিন চলিয়া যাইবেন, কিন্তু তাহাকে যে এই গ্রামেই বাস করিতে হইবে। একবার সে অফুটে বলিতেও গেল, কিন্তু হুজুর— কিন্তু বক্তব্যটা উহার অধিক অগ্রসর হইতে পাইল না । হুজুর মাঝখানেই থামাইয়া দিয়া কহিলেন, কিন্তু এখন থাক এককড়ি । আমার টাকার দরকার, পাচ-ছ’শ টাকা আমি ছাড়তে পারব না, ওটা তাদের দিতেই হবে। কাল চক্রবর্তীকে খবর দিয়ো যেন কাছারিতে হাজির থাকে দলিলপত্র কিছু থাকে ত তাও সঙ্গে আনতে পারে। রাত হ’ল এখন তুমি যেতে পারে । লোকজনদের খাবার বন্দোবস্ত করে দিও—সদরে ফিরে তোমাকে মনে রাখব । হুজুর মা-বাপ, বলিয়া এককড়ি আর একদফা ভূমিষ্ঠ প্রণাম করিয়া ধীরে ধীরে ধর হইতে বাহির হইয় গেল।