প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার).djvu/১৬৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


দেমী পাওনা সে আরও কতবার যাতায়াত করিয়াছে ; কিন্তু এতদিন ধরিত্রী যেন এই তাহার শাস্ত দুঃখের ছবিখানি মাতালের রক্তচক্ষু হইতে একান্ত সঙ্কোচে গোপন করিয়া রাখিয়াছিলেন । ওপারের রৌদ্র-দগ্ধ প্রান্তর বাহিয়া উষ্ণ বায়ু আসিয়া মাঝে মাঝে তাহার গায়ে লাগিতেছিল ; কিছুই নতুন নয়—সেইদিকে চাহিয়। অকস্মাং রুদ্ধ অভিমানের কান্নায় যেন আজ তাহার বুক ভরিয়া উঠিল । মনে মনে বলিতে লাগিল, মা পৃথিবী, তোমার দুঃখের তপ্ত নিশ্বাসটুকু কি লজ্জায় এতদিন চেপে রেখেছিলে, পাষণ্ড বলে জানতে দাওনি ? সংসারে আপনার বলতে আমার কেউ নেই, নিজের ছাড়া কারও স্বখ-দুঃখের কখনও ভাগ পাইনি—সেও কি ম আমার দোষ? আজ আছি, কাল যদি না থাকি, জুনিয়ার কারও ক্ষতি-বুদ্ধি নেই, এ-কথা কি তুমিই কোনদিন ভেবেচ মা ? এ অভিযোগ যে সে কাহার কাছে করিল, ম৷ বলিয়া যে সে বিশেষ কাহাকে লক্ষ্য করিয়া ডাকিল, বোধ হয় সে নিজেই ঠিকমত উপলব্ধি করে নাই ; তথাপি গিরিগাত্র-জ্বলিত উপলথগুসকল যেমন নিঝরের পথ ধরিয়া আপনার ভারবেগে আপনিই গড়াইয়া চলে, তেমনি করিয়াই তাহার সদ্য উৎসারিত আকস্মিক বেদনার অমৃভূতি চোখের জলের পথ ধরিয়া কথায় মালা গাঁথিয়া গাথিয়া নিরস্তর বহিয়া চলিতে লাগিল। মাঠের জলনিকাশের জন্য চাষার একবার এই পথের উপর দিয়া নালা কাটিয়া দিয়াছিল। নন্দী মহাশয়ের আদেশ অর্জন করিবার মত প্রচুর দক্ষিণা যখন তাহারা কোনমতেই সংগ্ৰহ করিতে পারে নাই, তখনই শুধু সৰ্ব্বনাশ হইতে আত্মরক্ষা করিতে এই কাজ করিয়াছিল ; কিন্তু দরিত্রের এই দুঃসহ স্পৰ্দ্ধা এককড়ি হুজুরের গোচর করিলে তিনি তৎক্ষণাৎ তাহ বন্ধ করিয়া দিয়াছিলেন, নিরুপায়ের অশ্রুজলে ভ্ৰক্ষেপমাত্র করেন নাই। স্থানটা তখন পর্য্যন্ত অসমতল অবস্থাতেই ছিল । দরিদ্র-পীড়নের এই উৎকট চিহ্ন এই পথে কতবারই ত তাহার দৃষ্টিগোচর হইয়াছে, কিন্তু আজ ইহাই চোখে পড়িয়া দুই চোথে অশ্র প্লাবিত হইয়া উঠিল । মনে মনে কহিল, আহা ! কত ক্ষতিই না-জানি হয়েচে ! কত ছোট ছোট ছেলে-মেয়ে হয়ত পেট-ভরে দু'বেলা খেতেও পারে না। কেনই বা মানুষে এ-সব করে! জায়গাট অন্ধকারেই ক্ষণকাল পর্য্যবেক্ষণ করিয়া কহিল, হাতে টাকা থাকলে কালই মিস্ত্রি লাগিয়ে এটা বঁধিয়ে দিতাম, প্রতি বৎসর এ নিয়ে আর তাদের দুঃখ পেতে হতো না । আচ্ছা কত টাকা লাগে ? সে পথ ছাড়িয়া মাঠে নামিয়া গেল, এবং সমস্তটা মন দিয়া পরীক্ষা করিতে লাগিল । এ-সম্বন্ধে কোন ধারণাই তাহার ছিল না, কত ইট, কত চুন-বালি, কত কাঠ, কি কি আবশ্বক কিছুই সে জানিত না, কিন্তু কথাটা তাহাকে যেন পাইয়া বসিল । সেইখানে ভূতের মত অন্ধকারে একাকী দাড়াইয়া সে কেবলই মনে মনে হিসাব করিতে লাগিল, এই ব্যয় তাহার সাধ্যাতীত কি না। لاية لا