প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার).djvu/১৮৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


দেনা-পাওনা চল বাবা, যাচ্চি। এই বলিয়া ষোড়শী তেলটকু প্রদীপের মধ্যে ঢালিয়া দিয়া ক্ষীণ দীপশিখা সমৃজল করিয়া দিয়া বাহির হইয়া আসিল । ঘরে তালা বন্ধ করিবার আবখক ছিল না, জীর্ণদ্বারে শুধু শিলকটি তুলিয়া দিয়া, গলায় অঞ্চল দিয়া জীবানন্দের পদপ্রাস্তে ভূমিষ্ঠ প্ৰণাম করিয়া পদধূলি লইয়া কহিল, আমি চললাম। জীবানন্দ কহিল, খাবার সময়টুকুও হ’ল না। না। প্রজারা জানে না আমি ভোরবেলায় যাত্রা করব, তারা এসে পড়বার পূৰ্ব্বেই আমার বিদায় হওয়া চাই। একটু হাসিয়া কহিল, এক-আধ দিন না খেলে আমাদের মরণ হয় না। সঙ্গে সঙ্গে আসিয়া জীবানন্দ তাঁহাকে গাড়িতে তুলিয়া দিল। গাড়ি ছাড়িয়া দিলে তাহার কানের কাছে মুখ আনিয়া কহিল, অলক, তোমার মা একদিন তোমাকে আমার হাতে দিয়েছিলেন, তৰু তোমাকে পেলাম না, কিন্তু, সেদিন আমাকে যদি কেউ তোমার হাতে সঁপে দিতেন, আজ বোধ হয় তুমি অন্ধকারে আমাকে এমন করে ফেলে যেতে পারতে না । ইহার জবাব ষোড়শী খুজিয়া পাইল না। শুধু কথাগুলোর একটা অব্যক্ত, অপরিসীম ব্যাকুলধ্বনি তাহার দুই কান আচ্ছন্ন করিয়া রহিল। গাড়ি মোড় ফিরিবার পূৰ্ব্বেও সে মুখ বাড়াইয়া দেখিল শেষ-নিশার প্রগাঢ় অন্ধকারে ঠিক সেইখানেই সে তেমনি স্তন্ধ হইয়া দাড়াইয়া আছে । রাত্রি প্রভাত হইতে তখন খুব বেশি বিলম্ব ছিল না, জীবানন্দ মাঠের পথ ধরিয়া তাহার গৃহে ফিরিল। কিছুক্ষণ হইতে অস্ফুট কোলাহল তাহার কানে যাইতে ছিল, কিছুদূর অগ্রসর হইতেই স্বমুখের আকাশে উষার আরক্ত আভার মত রাঙা আলো তাহার চোখে পড়িল, এবং চলার সঙ্গে সঙ্গেই এই শব্দ ও আলোক উত্তরোত্তর বাড়িয়া চলিতে লাগিল। অবশেষে কাছাকাছি আসিয়া দেখিতে পাইল বহুলোকের ব্যর্থ চীৎকার ও ছুটাছুটির মধ্যে বীজগ্রামের জমিদার-গোষ্ঠীর প্রমোদভবন, তাহার মাতামহের অত্যন্ত সাধের শান্তিকুঞ্জ অগ্নিদাহে ভস্মীভূত হইতে আর বিলম্ব নাই। ר רג ”. ماه سه