প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার).djvu/২০৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


পরিণীত৷ সত্যি। মামিমা দেখিয়ে দেন, আমি কতদিন বাধি যে। বলিয়াই সে মুখ নীচু করিল। তাহার আনত মাথার উপর হাত রাখিয়া গুরুচরণ নি:শব্দে আশীৰ্ব্বাদ করিলেন। তাহার একটা গুরুতর দুর্ভাবনা দূর হইল। এই ঘরটি গলির উপরেই। চা পান করিতে করিতে জানালার বাহিরে দৃষ্টি পড়ায় গুরুচরণ চেচাইয়া ডাকিয়া উঠিলেন, শেখর না-কি ? শোন, শোন । একজন দীর্ঘায়তন বলিষ্ঠ মুন্দর যুবা ঘরে প্রবেশ করিল। গুরুচরণ বলিলেন, বসে, আজ সকালে তোমার খুড়িমার কাগুটা শুনেচ বোধ হয় । - শেখর মৃদু হাসিয়া বলিল, কাণ্ড আর কি, মেয়ে হয়েছে তাই ? গুরুচরণ একটা নিশ্বাস ফেলিয়া বলিলেন, তুমি ত বললে তাই, কিন্তু তাই যে কি, সে শুধু আমিই জানি যে ! শেখর কহিল, ও-রকম বলবেন না কাক, খুড়িমা শুনলে বড় কষ্ট পাবেন । ত৷ ছাড়া ভগবান যাকে পাঠিয়েচেন তাকেই আদর-আহ্নাদ করে ডেকে নেওয়া উচিত । গুরুচরণ মুহূৰ্ত্তকাল মৌন থাকিয়া বলিলেন, আদর-আহলাদ করা উচিত, সে আমিও জানি । কিন্তু বাবা, ভগবান ত স্ববিচার করেন না। আমি গরীব, আমার ঘরে এত কেন ? এই বাড়িটুকু পর্য্যন্ত তোমার বাপের কাছে বাধা পড়েচে, তা পড়ুক, সে জন্যে দুঃখ করিনে শেখর, কিন্তু এই হাতে-হাতেই দেখ না বাবা, এই যে আমার ললিতা, মা-বাপ-মরা সোনার পুতুল, একে শুধু রাজার ঘরেই মানার। কি করে একে প্রাণ ধরে যার তার হাতে তুলে দিই, বল ত ? রাজার মুকুটে যে কোহিনুর জলে, তেমনি কোহিত্যুর রাশীকৃত করে আমার এই মাটিকে ওজন করলেও দাম হয় না। কিন্তু কে তা বুঝবে ! পয়সার অভাবে এমন রত্নকেও আমাকে বিলিয়ে দিতে হবে । বল দেখি বাবা, সে-সময়ে কিরকম শেল বুকে বাজবে ? তেরো বছর বয়স হ’লো, কিন্তু হাতে আমার এমন তেরোট। পয়সা নেই যে, একটা সম্বন্ধ পৰ্য্যন্ত স্থির করি ? গুরুচরণের দুই চোখ অশ্রপূর্ণ হইয়া উঠিল। শেখর চুপ করিয়া বহিল। গুরুচরণ পুনরায় কহিলেন, শেখরনাথ, দেখো ত বাবা, তোমার বন্ধু-বান্ধবদের মধ্যে যদি এই মেয়েটার কোন গতি করে দিতে পার । আজকাল অনেক ছেলে শুনেচি টাকা-কড়ির দিকে চেয়ে দেখে না, শুধু মেয়ে দেখেই পছন্দ করে । তেমনি যদি দৈবাৎ মিলে যায় শেখর, তা হলে বলচি আমি, আমার আশীৰ্ব্বাদে তুমি রাজা হবে। আর কি বলব বাবা, এ-পাড়ায় তোমাদের আশ্রয়ে আমি আছি, তোমার বাবা জামাকে ছোট ভাইয়ের মতন দেখেন । 를 하》 t-షితి