প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার).djvu/২১৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


পরিণীত ললিতা চুপ করিয়া দাড়াইয়া মনে মনে রাগিতেছিল ; যুদ্ধশ্বরে বলিল, খাৰু জেরি, জামারো নীচে কোন কাজ নেই। শেখর চোখ চাহিয়া হাসিয়া বলিল, এই ষে কথা বেরিয়েচে ! নীচে কাজ না থাকে ও-বাড়িতে আছে ত ? তাও না থাকে, তার পরের বাড়িতেও আছে ত ? বাড়ি ত তোমার একটি নয় ললিতে ? নয়ই ত! বলিয়া রাগ করিয়া ললিতা খাবারের থালাটা জুম করিয়া টেবিলে রাখিয়া দিয়া হন হন করিয়া বাহির হইয়া গেল । শেখর চেচাইয়া বলিল, সন্ধ্যের পরে একবার এসো । একশবার আমি ওপর-নীচে করতে পারিনে, বলিয়া ললিত চলিয়া গেল । নীচে আসিবামাত্রই মা বলিলেন, দাদাকে তোর খাবার দিয়ে এলি পান দিয়ে এলিনে রে ! আমার ক্ষিদে পেয়েচে মা, আমি আর পারিনে, আর কেউ দিয়ে আস্থক, বলিয়া ললিত বসিয়া পডিল । মা তাহার কষ্ট মুখের পানে চাহিয়া একটু হাসিয়া বলিলেন, আচ্ছা, তুই খেতে বোস, ঝিকে পাঠিয়ে দিচ্চি । ললিত প্রত্যুত্তর না করিয়া খাইতে বসিয়া গেল। সে থিয়েটার দেখিতে যায় নাই—তবু শেখব তাহাকে বকিয়াছিল, এই রাগে সে চার-পাচদিন শেখরকে দেখা দেয় নাই, অথচ সে অফিসে চলিয়া গেলে দুপুরবেলা গিয়া ঘরের কাজ করিয়া দিত। শেখর নিজের ভুল বুঝিতে পারিয়া তাহাকে দু'দিন জ্ঞাকিয়া পাঠাইয়াছিল, তথাপি সে যায় নাই । চতুর্থ পরিচ্ছেদ এ-পাড়ার একজন অতিবৃদ্ধ ভিক্ষুক মাঝে মাঝে ভিক্ষণ করিতে আসিত, তাহার উপর ললিতার বড় দয়া ছিল, আসিলেই তাহাকে একটি করিয়া টাকা দিত। টাকাটি হাতে পাইয় সে ৰে-সমস্ত অপূৰ্ব্ব এবং অসন্তৰ আশীৰ্ব্বাদ উচ্চারণ করিতে থাকিত, সেইগুলি শুনিতে সে অতিশয় ভালবাসিত । সে বলিত, ললিত পূৰ্ব্বজয়ে তাহার আপনার মা ছিল, এবং ইহা সে ললিতাকে দেখিবামাত্রই কেমন করিয়া 》