প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার).djvu/২৬২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ ও বিরক্ত হইয়া কহিল, ও কি ঠাকুরবি ! কাপড় পরনি যে ! খবর পাওনি নাকি ? বিমল সলজ্জ হাসিমুখে বলিল, পেয়েচি বৈ-কি, কিন্তু একটু দেরি হবে ভাই। উনি এইমাত্র একটুখানি বেড়াতে বেরুলেন—ফিরে না এলে ত যেতে পারবো না । ইন্দু মনে মনে অত্যন্ত বিরক্ত হইল। একটা খোচা দিয়া প্রশ্ন করিল, প্রতুর হুকুম পাওনি বুঝি ? বিমলার স্বন্দর মুখখানি স্নিগ্ধ মধুর হাসিতে ভরিয়া গেল। এই খোচাটুকু সে যেন ভারি উপভোগ করিল। কহিল, না, দাসীর আর্জি এখনও পেশ করা হয়নি, হলে যে না-মঞ্জুর হবে না, সে ভরসা করি । ইন্দু আরও বিরক্ত হইল। প্রশ্ন করিল, তবে পেশ হয়নি কেন ? খবর ত তোমাকে আমি বেলা থাকতেই পাঠিয়েছিলুম। তখন সাহস হ’লে না বে। আফিস থেকে এসেই বললেন, মাথা ধরেচে। ভাবলুম, জলটল খেয়ে একটু ঘুরে আস্কন, মনটা প্রফুল্ল হোক—তখন জানাব। এখনও ত দেরি আছে, একটু বসে না ভাই, তিনি ফিরে এলেন বলে। কি জানি, কিসে তোমার হাসি আসে ঠাকুরবি ! আমি এমন হলে লজ্জায় মরে যেতম। আচ্ছা, বিকে কিংবা বেহারাটিকে বলে কি যেতে পার না ? বিমলা সভয়ে বলিল, বাপ রে! তা হলে বাড়ি থেকে দূর করে দেবেন-এ জন্মে আর মুখ দেখবেন না । ইন্দু ক্রোধে বিস্ময়ে অবাক হইয়া কহিল, দূর করে দেবেন ! কোন আইনে ? কোন অধিকারে শুনি ? বিমলা নিতান্ত সহজভাবে জবাব দিল, বাধা কি বোঁ ! তিনি মালিক—আমি দাসী বৈ ত নয়। তিনি তাড়ালে, কে তাকে ঠেকাবে বল ? ঠেকাবে রাজা । ঠেকাবে আইন। সে চুলোয় যাক গে ঠাকুরবি, কিন্তু নিজের মুখে নিজেকে দাসী বলে কবুল করতে কি একটু লজ্জা হয় না? স্বামী কি মোগল বাদশা ? অার স্ত্রী কি তার ক্রীতদাসী যে, আপনাকে আপনি এমন হীন, এমন তুচ্ছ করে গৌরব বোধ করচ ? এই ক্রোধটুকু লক্ষ্য করিয়া বিমলা আমোদ বোধ করিল, কহিল, তোমার ঠাকুরবি যে মুখ্য মেয়েমানুষ বোঁ, তাই নিজেকে স্বামীর দাসী বলে গৌরব বোধ করে। আচ্ছা, জিজ্ঞাসা করি ভাই, তুমি যে এত কথা বলচ, তুমিই কি বাড়ি থেকে বেরিয়েচ দাদার হুকুম না নিয়ে ? হকুম ? কেন, কি জন্যে ? তিনি নিজে যখন কোথাও যান—আমার হুকুমের অপেক্ষা করেন কি ? আমি যাচ্ছি, শুধু এই কথা তাকে জানিয়ে এসেচি। নিমেষ+ 犬等邻