প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার).djvu/৩০১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বোঝা পরদিন প্রাতে হরদেববাবু সত্যেন্দ্রকে ডাকিয়া ঐ কথাই বলিলেন। সত্যেন্দ্র কোন উত্তর দিল না। হরদেববাবু বুঝিলেন, মৌনভাব সম্মতির লক্ষণমাত্র। সত্যেন্দ্র ঘরে আসিয়া সরলার ফটোর সম্মুখে দাড়াইয়া কহিল, শুনচো সরো, আমার বিয়ে হবে। ফটোগ্রাফ কথা কহিতে পারে না। পারিলে কি বলিত ? বেশ ত, বলিত কি ? চতুর্থ পরিচ্ছেদ নলিনী সত্যেন্ত্রর এবার কলিকাতায় বিবাহ হইল। শুভদৃষ্টির সময় সত্যেন্দ্ৰ দেখিল মুখখানি বড় সুন্দর। হউক সুন্দর, তথাপি ভাবিল তাহার মাথায় একটা বোঝা চাপিল । বিবাহের পর দুই বৎসর নলিনী পিতৃগৃহে রহিল । তৃতীয় বৎসরে সে শ্বশুরুভবনে আসিয়াছে, গৃহিণী নূতন বধূর চাদপানা মুখ দেখিয়া আবার সরলাকে ভুলিবার চেষ্ট করিলেন, আবার সংসার পাতিবার চেষ্টা করিলেন। রাত্রে যখন দুইজনে পাশাপাশি শুইয়া থাকে, তখন কেহই কাহারও সহিত কথা बृंश् न1 ।। নলিনী ভাবে, কেন এত অধত্ব ? সত্য ভাবে, এ কোথাকার কে যে আমার সরোর জায়গায় শুইয়া থাকে ? নূতন বধু লজ্জায় স্বামীর সহিত কথা কহিতে পারে না—সত্যেন্দ্র ভাবে, কথা কহে না ভালই। একদিন রাত্রে সত্যেস্ত্রের ঘুম ভাঙ্গিয়া যাইলে সে দেখিল, শয্যায় কেহ নাই। ভাল করিয়া চাহিয়া দেখিল, কে একজন জানালায় বসিয়া আছে। জানালা খোলা । খোলা পথে জ্যোৎস্নালোক প্রবেশ করিয়াছে, সেই আলোকে সত্যেন্দ্র নলিনীর মুখের কিয়দংশ দেখিতে পাইল, ঘুমের ঘোরে জ্যোৎস্নার আলোকে মুখখানি বড় সুন্দর দেখিল । কান পাতিয়া সে শুনিল, নলিনী কঁদিতেছে। সত্য ডাকিল, নলিনী— - নলিনী চমকিয়া উঠিল। স্বামী আহ্বান করিয়াছেন ! অন্য মেয়ে কি করিত জানি না, কিন্তু নলিনী ধীরে ধীরে আসিয়া নিকটে বসিল । ❖ዩ