প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার).djvu/৩০৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বোঝা আসিয়া পৌঁছিলেন। হঠাৎ দাদাকে দেখিয়া নলিনী অতিশয় সন্তুষ্ট হইল, কিন্তু ততোধিক বিস্মিত হইল। দাদা যে ? নরেন্দ্রবাবু নলিনীর সহিত সাক্ষাং করিয়া হাসিয়া বলিলেন, বাড়ি যাবার জন্য এত ব্যস্ত হয়েচিম কেন বোন ? ব্যস্ত ! কথাটার অর্থ নলিনী তখনই বুঝিয়া ফেলিল। সে হাসিয়া বলিল, তোমাদের যে অনেকদিন দেখিনি । সপ্তম পরিচ্ছেদ ভাঙ্গিয়াছে যেদিন স্বামীর চরণে প্ৰণিপাত করিয়া নলিনী দাদার সহিত গাড়িতে উঠিল, সে রাত্রে সত্যেন্দ্রনাথ একটুকুও ঘুমাইতে পারিল না। সমস্ত রাত্রি ধরিয়া সত্যেন্দ্র ভাবিতেছিল, এতটা না করিলেও চলিতে পারিত। অনেকবার সত্যর মনে হইয়াছিল, এখনও সময় আছে, এ-সময়ও গাড়ি ফিরাইয়া আনি । কিন্তু হায়ু রে অভিমান ! তাহারই জন্য নলিনীকে ফিরাইয়া আনা হইল না । যাইবার সময় মাতুও সঙ্গে গিয়াছিল। সে-ই কেবল যাইবার যথার্থ কারণ জানিত। নলিনী মাতুকে বিশেষ করিয়া বলিয়া দিয়াছিল, যেন সে বাটতে কোন কথা না বলে। নলিনী মনে করিল, এ-কথা প্রকাশ করিলে স্বামীর অপযশ করা হইবে । ভাল হউক আর মন্দ হউক, তাহার স্বামীকে লোকে মন্দ বলিবার কে ? পিতৃ-গৃহে যাইয়া নলিনী পিতামাতার চরণে প্রণাম করিল, ছোট ভাইটিকে কোলে লইল, শুধু সে হাসিতে পারিল না। মা বলিলেন, নলিনী আমার একদিনের গাড়ির পরিশ্রমে একেবারে গুকিয়ে গেছে। কিন্তু সে শুষ্ক মুখ আর প্রফুল্প হইল না । পৃথিবীতে প্রায়ই দেখা যায়, একটা সামান্য কারণ হইতে গুরুতর অনিষ্ট্রের উৎপত্তি হয়। শূৰ্পনখার ঈষৎ চিত্তচাঞ্চল্যই স্বর্ণ-লঙ্কা ধ্বংসের হেতু হইয়াছিল । অকিঞ্চিৎকর রূপলালসার জন্য শুধু ট্রয় নগর ধ্বংস হইয়া গেল। মহামুভব রাজা হরিশ্চন্দ্র অতি সামান্য কারণেই অমন বিপদগ্রস্ত হইয়াছিলেন ; জগতে এরূপ দৃষ্টান্ত বিরল নহে। এখানেও একটা সামান্য অভিমানে বিষম বিপত্তি ঘটিয়া উঠিল। সত্যেন্ত্রনাথের দোষ দেব কি। \)》