প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার).djvu/৩৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


দেনা-পাওনা দেখিয়া একটুখানি হাসিয়া কহিল, আমার কিছুতে লজ্জা করে না, কিন্তু আমারও এগুলো তোমার হাত তুলে দিতে বাধ বাধ ঠেকচে । ষোড়শী শাস্ত-নম্রকণ্ঠে বলিল, কিন্তু তাই ত দেবার কথা ছিল । জীবানদের পাংশু মুখের উপর ক্ষণিকের জন্য লজ্জার আরক্ত আভা ভাসিয়া গেল, কহিল, কথা যাই থাক ষোড়শী, আমাকে বাচাতে তুমি যা খোয়ালে তার দাম টাকায় ধাৰ্য্য করচি, এ মনে করার চেয়ে বরঞ্চ আমার না বঁাচাই ছিল ভাল । ষোড়শী তাহার মুখের উপর দুই চক্ষুর আচপল দৃষ্টি স্থির রাখিয়া কহিল, কিন্তু মেয়েমানুষের দাম ত আপনি এই দিয়েই চিরদিন ধাৰ্য্য করে এসেছেন । জীবানন্দ নিরুত্তরে বসিয়া রহিল ! ষোড়শী কহিল, বেশ, আজ যদি সে মত আপনার বদলে থাকে, টাকা না হয় রেখে দিন, আপনাকে কিছুই দিতে হবে না। কিন্তু আমাকে কি সত্যিই এখনো চিনতে পারেননি? ভাল করে চেয়ে দেখুন দিকি ? জীবানন্দ নীরবে চাহিয়া রহিল, বহুক্ষণ পৰ্য্যস্ত তাহার চোখে পলক পৰ্য্যস্ত পড়িল না । তারপর ধীরে ধীরে মাথা নাড়িয়া কহিল, বোধ হয় পেরেছি । ছেলেবেলায় তোমার নাম অলকা ছিল না ? ষোড়শী হাসিল না ; কিন্তু তাহার সমস্ত মুখ উজ্জল হইয়া উঠিল, কহিল, আমার নাম ষোড়শী। ভৈরবীর দশমহাবিদ্যার নাম ছাড়া আর কোন নাম থাকে না । কিন্তু অলকাকে আপনার মনে আছে ? জীবানন্দ নিরুংসুক-কণ্ঠে বলিল, কিছু কিছু মনে আছে বৈ কি ! তোমার মায়ের হোটেলে মাঝে মাঝে খেতে যেতাম, তখন তুমি ছ-সাত বছরের মেয়ে ; কিন্তু আমাকে ত তুমি অনায়াসে চিনতে পেরেচ ! এই কণ্ঠস্বর ও তাহার নিগূঢ় অর্থ অনুভব করিয়া যোড়শী কিছুক্ষণ নিরুত্তরে থাকিয়া অবশেষে সংজভাবে বলিল, তার কারণ অলকার বয়স তখন ছ-সাত নয়, ন-দশ বৎসর ছিল , এবং আপনার মনেও হতে পারে, তার মা তাকে আপনার বাহন বলে পরিহাস করতেন। তা ছাড়া, আপনার মুখের আর যত বদলই হোক, ডান চোখের ওই তিলটির কখনো পরিবর্তন হবে না । অলকার মাকে মনে পড়ে ? জীবানন্দ কহিল, পড়ে। তার সম্বন্ধে তারাদাস ষা বলতে বলতে গেল তাও বুঝতে পারচি। তিনি বেঁচে আছেন ? না। বছর দশেক পূৰ্ব্বে তার কাশীলাভ হয়েচে । আপনাকে তিনি বড় ভালবাসতেন, না ? জীবানন্দের শীর্ণ মুখের উপর এবার উদ্বেগের ছায়া পড়িল, কহিল, ই । فيسيه