প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার).djvu/৬০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


#ङ्ग९-लjहेछ-*dई ফকির জবাব দিলেন, কহিলেন, জমিদারের অত্যাচারে ও অনাচারে উনি যে রাগের মাথায় নিজেই গিয়েছিলেন এ-কথা ত মিথ্যে নয় শিরোমণিমশায় ? এবং তিনি ষে হঠাৎ ভয়ানক অসুস্থ হয়েছিলেন, এ-ঘটনাও ত সত্য। জনাৰ্দ্দন রায় এতক্ষণ নীরবেই সমস্ত বাদামুবাদ শুনিতেছিলেন আর সহিতে পারিলেন না, বলিয়া উঠিলেন, এই যদি সত্য হয় ফকিরসাহেব, ত নিজের বাপের বিরুদ্ধে দাড়িয়ে অত্যাচারীকে বাচাবার কি প্রয়োজন হয়েছিল ? তার অসুখ ত ওঁর কি ? অমুখে সেবা করবার জন্য ত বীজগায়ের জমিদার পালকি পাঠিয়ে নিয়ে যায়নি ? মোট কথা আমরা ওকে রাখব না আমরা ভিতরের ব্যাপার জানি । তা ছাড়া, ওর যদি কিছু বলবার থাকে ওকেই বলতে দিন। আপনি মুসলমান, বিদেশী, আপনার ত হিন্দুধর্মের মাঝখানে পড়ে মধ্যস্থ হবার দরকার নেই ! তাহার কথার কাজ এবং তীক্ষতা কিছুক্ষণ অবধি যেন ঘর ভরিয়ারি রি করিয়া বাজিতে লাগিল । ব্যারিস্টারসাহেব নিজেও কেমন একপ্রকার অস্বচ্ছন্দ এবং অপ্রতিভ হইয়া উঠিলেন, এবং বাক্যহীন ভৈরবীর নিস্তব্ধ বক্ষঃকুহরেও কি একটা উত্তর বাহিরে আসিবার জন্ত বারবার উচ্ছ্বসিত হইয়া উঠিতে লাগিল। ইহারই চিহ্ন ফকিরসাহেব ষোড়শীর মুখের উপরে চক্ষের পলকে অনুভব করিয়া শুধু একটুখানি হালিলেন, তার পর জনাৰ্দ্দন রায়কে লক্ষ্য করিয়া হাসিমুখে বলিলেন, রায়মশায়, অনেকদিনের কথা হ’লো, আপনার হয়ত মনে নেই, মন্দিরের দক্ষিণে ঐ যে বুড়ো নিম গাছট। তারই তলায় তখন থাকি। যোড়শী তখন এতটুকু মেয়ে, তখন থেকেই মা বলে ডাকি— মুসলমান হয়েও যে ভুলটা করে ফেলেচি সেটা আজ আমাকে মাপ করতে হবে। সেই মায়ের এতবড় বিপদে না এসে থাকতে পারি ? মা জিনিসটা ত তুচ্ছ নয় । তা না হলে আজই সকালে যখন ওঁরই মুখ থেকে ওঁর মায়ের লজ্জার কাহিনী টেনে বার করতে চেয়েছিলেন, তখন আপনার নিজের ওই মা’টর কাছে ধমক খেয়ে আমন বিহ্বল ব্যাকুল হতে আপনাকে হ’তে না । এই বলিয়া ফকির দ্বারসংলগ্ন মূৰ্ত্তিবং স্থির হৈমবর্তীকে ইঙ্গিতে দেখাইয়া দিলেন। হতবুদ্ধি জনাৰ্দ্দন হঠাৎ উত্তর খুজিয়া না পাইয়া কহিলেন, ও-সব বাজে কথা । ফকির তেমনি হাসিমুখে বলিলেন, পাকা বীজ ও পাথরের উপর পড়ে বাজে হয়ে যায়, আমার এতটা বয়সে সে আমি জানতুম। আমি কাজের কথাও বলচি। ওই মহাপাপিষ্ঠ জমিদারটকে কেন যে মা আমার বাচাতে গেলেন সে আমিও জানিনে— জিজ্ঞেস করেও জবাব পাইনি। আমার বিশ্বাস, কারণ ছিল –আপনাদের বিশ্বাস সেই হেতুটা মন। এখানে মাতঙ্গিনী ভৈরবীর কথাটা তুলতে পারতুম, কিন্তু একজনের ভাল করবার জন্তেও অন্তের মানি করা আমাদের ধৰ্ম্মে নিষেধ, তাই আমি সে নজির দেব না। কিন্তু আপনাকে আমার অনেক কথা বলবার আছে রায়মশায়। 批战