প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার).djvu/৬১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


८मनों-9ांeनां এ যদি কেবল তারাদাসের সঙ্গেই হ’তে, হয়তো আমি মাঝে পড়তে যেতাম না, ও বেচারা তার বৃদ্ধি এবং সাধ্যমত কৰ্ত্তব্য করবার চেষ্টা করেচে, কিন্তু আপনারা, বিশেষ করে আপনি নিজে কোমর বেঁধে দাড়িয়েছেন, কিসের জন্য শুনি ? ষোড়শী ত এক নয়, আরও অনেক মেয়ে আছে। গ্রামের বৃকের মধ্যে বসে লোকটা যখন রাত্রির পর রাত্রি মানুষের মান-ইজ্জত অপহরণ করছিল, তখন কোথায় ছিলেন শিরোমণি, কোথায় ছিলেন জনাৰ্দ্দন রায় ? সে যখন গরীবের সর্বস্ব শোষণ করে পাচ হাজার টাকা আদায় করে নিয়ে গেল, তার কতখানি বুকের রক্ত আপনি তাদের জমি-জমা, বাড়ি-ঘব-দ্বার বাধা রেখে যুগিয়েছিলেন শুনি ? কিন্তু থাক, রায়মশায়, আপনার মেয়ে-জামাই দাড়িয়ে আছেন, তাদের চোখের সুমুখে আর আপনার মহাপাপের ভবা উন্মুক্ত করে ধরব না । এই বলিয়া দেই মুসলমান ফকির নীরব হইলেন কিন্তু তাহার নিদারুণ অভিযোগের শেষ বাক্যটা যেন শেষ হইয়াও নিঃশেষ হইল না। কাহারও মুখে কথা নাই, সমস্ত ঘরটা স্তব্ধ হইয়া রহিল, কেবল একটা তীব্র কণ্ঠের রেশ যেন চারদিকের প্রাচীর হইতে বারংবার প্রতিহত হইয়া কেবল ধিক্ ! ধিক্‌ ! করিতে লাগিল । হৈম কাহারও প্রতি দৃষ্টিপাতমাত্র করিল না, নীরবে নতমুখে ধীরে ধীরে অন্যত্র সরিয়া গেল এবং ব্যারিস্টারসাহেব সেইখানে তাহার চৌকির উপর স্তব্ধ হইয়া বসিয়া রহিলেন । ফকির ভৈরবীকে উদ্দেশ করিয়া কহিলেন, মা, চল আমরা যাই । এই বলিয়া তিনি আর দ্বিতীয় কথা না বলিয়া তাহাকে সঙ্গে করিয়া নিষ্ক্রাস্ত হইয়া গেলেন । প্রাঙ্গণের বাহিরে আসিয়া দেখিলেন সদর দরজার একপাশে দাড়াইয়া হৈম । তাহার দুই চক্ষু ছল ছল করিতেছে। সে অশ্রুসজল দৃষ্টি ফকিরের মুখের প্রতি তুলিয়া কহিল, বাবা, আমার স্বামীকে আপনি মাপ করুন। ফকির বিস্মিত হইয়া কহিলেন, কেন মা ? হৈম তাহার উত্তর না দিয়া কহিল, আমার স্বামীকে নিয়ে যদি আপনার আশ্রমে যাই আপনি দেখা করবেন ? এবার ফকির হাসিলেন ; তারপরে স্নিগ্ধ-কণ্ঠে কহিলেন, করব বই কি মা ! তোমাদের দুজনের নিমন্ত্রণ রইল, সময় পেলে যেয়ো । చి