প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার).djvu/৭৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


८गन-*/ीं७न চালাটার মধ্যে দূরের যাত্রীরা কেহ কেহ রায়া-বাড়া করিয়া খায়, তাহাতেই আশ্রয় লইয়াছে। এ-সমস্ত মা-চওঁীর কৃপা এবং এই কৃপাট আর একটুখানি বৃদ্ধি পাইলেই তাহাকে গ্রাম হইতে দূর করিয়া দেওয়াও কঠিন কাজ হইবে না। উৎফুল্প তারাদাস উপরের দিকে একটা কটাক্ষপাত করিয়া সবিনয় হাস্তে কহিল, সমস্তই মায়ের কাজ—ষা করবার তিনি করেচেন, নইলে অত বড় রায়বাধিনী একেবারে ভেড়া হয়ে গেল । তামাকটি ধরিয়ে সবে ফু দিচ্চি, মেয়েট পাশে বসে চা-সিদ্ধটুকু ছেকে দিচ্চে, এমনি সময়ে কোথা থেকে ভিজতে ভিজতে এসে হাজির । আমাদের দেখে ভয়ে যেন একেবারে কাঠ হয়ে গেল ; খানিক পরে আস্তে আস্তে বললে, বাবা, আমি ত কখনও বলিনি, তুমি যাও, কিংবা এধানে থেকে না। নিৰে রাগ করে চলে গিয়ে কত না কষ্ট পেলে ! আমি বললাম, হুঃ– দোরের উপরে উঠে বলল, এ ধরে ভূমি কি তালা দিয়েচ বাবা ? বললাম, হ-দিইচি ৷ কি করবি কর। চুপ করে থেকে বললে, তোমার সঙ্গে আমি কিছুই করব না বাবা, তোমরা থাকে। কেবল ঘরটা একবার খুলে দাও, আমার কাপড় দুখানা নিই। দিলাম খুলে। মা-চওঁীর দয়ায় আর কোন দাঙ্গ করলে না ; পরবার খান-দুই কাপড়, একটা কম্বল, আর একটা ঘটা নিয়ে অন্ধকারেই ভিজতে ভিজতে দূর হয়ে গেল। মাকে গড় হয়ে নমস্কার করে বললাম, মা, এমনি দয়া যেন ছেলের ওপর থাকে। তোর নাম না করে কখনো জলগ্ৰহণ করিনে। শিরোমণি হাত নাড়িয়া কহিলেন, থাকবে । থাকবে । আমি বলচি তারাদাস, মা মুখ তুলে চাইবেন। নইলে তার জগদম্বা নামই যে বৃথা। এককড়ি কহিল, কিন্তু ঠাকুর, যাই বল, মায়ের গদি কখনো খালি থাকতে পারবে না, তোমার মেয়েটিকে নতুন ভৈরবী করতে বিলম্ব করলেও চলবে না বলে রাখচি । - রায়মহাশয় পোড়া ছ’কাটা পাশের লোকটির হাতে দিয়া পরম গাম্ভীর্ব্যের সহিত বলিলেন, হবে, সব হবে, আমি সমস্ত ঠিক করে দেব, তোমরা ব্যস্ত হ’য়ে না। জামাতার প্রতি চাহিয়া কহিলেন, কি বাবা, ছুড়ির কাছ থেকে একছত্র লিখিয়ে নেওয়া ত চাই ? চাই বই কি ! তাও হবে—ডেকে আনিয়ে দুটো ধমক দিয়ে এও আমি করিয়ে নেব। কিন্তু তাও বলে রাখচি তারাদাস, কদমতলার ওই জমিটে নিয়ে হাঙ্গামা করলে চলবে না। ধানের আড়তটা আমার সামনে সরিয়ে না আনলে চারদিকে আর চোখ রাখতে পারচিনে । মেলার নাম করে যোড়শীর মত ঝগড়া করলে কিন্তু—