প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার).djvu/৯৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


দেনা-পাওনা মণি-মাণিক্যের এ-পিঠ ও পিঠ বললেও অত্যুক্তি হয় না। তা ছাড়া তোমার দাদাটি যে কত্ত্বরী মুগ ; সুগন্ধ আর কতকাল চেপে রাখবে ভাই । টাকা ! টাকা । এর নালিশ আর তার নালিশ, অমুকের ডিক্ৰী আর তমুকের কিস্তিখেলাপ—ওহে, ও তারাদাস, সে দিনটা নেহাৎ ফস্কে গিয়েছিল, কিন্তু হতাশ হ’য়ো না ঠাকুর, যা করে তুলেচি, তাতে মনস্কামনা তোমার পূর্ণ হতে খুব বেশী বিলম্ব হবে বলে আশঙ্কা হয় না। প্রফুল্ল, রাগ ক’রো না ভায়া, আপনার বলতে আর কাউকে বড় বাকী রাখিনি, কিন্তু এই চল্লিশটা বছরের অভ্যাস ছাড়তে পারবো বলেও ভরসা নেই, তার চেয়ে বরঞ্চ, নোট-টোট জাল করতে পারে এমন যদি কাউকে যোগাড় করে আনতে পারতে হে— প্রফুল্ল অত্যন্ত বিরক্ত হইয়াও হাসিয়া ফেলিল, কহিল, দেখুন, সবাই আপনার কথা বুঝবেন না, সত্য ভেবে যদি কেউ— জীবানন্দ গম্ভীর হইয়া কহিলেন, যদি কেউ সন্ধান করে আনেন ? তা হলে বেঁচে যাই প্রফুল্ল । রায়মশায়, আপনি ত শুনি অতি বিচক্ষণ ব্যক্তি, আপনার জানাশুনা কি এমন কেউ— রায়মহাশয় মান-মুখে অকস্মাৎ উঠিয়া দাড়াইয়া বলিলেন, বেলা হয়ে গেল, যদি অনুমতি করেন ত এখন আসি । জীবানন্দ ঈষৎ অপ্রতিভ হইয়া কহিলেন, বামুন, বসুম, প্রফুল্লর জাক বেড়ে যাবে। তা ছাড়া, ভৈরবীর কথাটাও শেষ হয়ে যাক। কিন্তু আমি যাও বললেই কি সে যাবে ? রায়মহাশয় না বসিয়াই সংক্ষেপে উত্তর দিলেন, সে ভার আমাদের । কিন্তু আর কাউকে ত বহাল করা চাই। ও ত খালি থাকতে পারে না। এবার অনেকেই জবাব দিল, সে ভারও আমাদের । জীবানন্দ নিশ্বাস ফেলিয়া কহিলেন, যাক বাচা গেল, এবার সে যাবেই। এতগুলো মানুষের নিশ্বাসের ভার এক ভৈরবী কেন, স্বয়ং মা-চওঁীও সামলাতে পারবেন না, তা বোঝা গেল। আপনাদের লাভ-লাকসান আপনারাই জানেন, কিন্তু আমার এমন অবস্থা যে, টাকা পেলে আমার কিছুতেই আপত্তি নেই। নতুন বন্দোবস্তে আমার কিছু পাওয়া চাই। ভাল কথা, কেউ দেখত রে, এককড়ি আছে না গেছে ? কিন্তু গলাটা যে এদিকে গুকিয়ে একেবার মরুভূমি হয়ে গেল । বেয়ারা আসিয়া প্রস্তুর ব্যগ্র-ব্যাকুল গ্ৰহস্তে পূর্ণ-পাত্ৰ দিয়া খবর দিল, সে সদরে বসিয়া খাতা লিখিতেছে। হুজুরের আহবানে ক্ষণেক পরে এককড়ি আসিয়া যখন সসম্বমে একপাশে দাড়াইল, জীবানন্দ শুষ্ক কণ্ঠ আদ্র করিয়া লইয়া জিজ্ঞাসা 鲁势