প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (প্রথম সম্ভার).djvu/১১২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ পথে শনৈ: শনৈঃ বিনিগত করায় কিরূপ আশ্চৰ্য্য উপকার, তাহা বুঝাইয়া দিলেন, এবং এ বিষয়ে আমার নিজের অবস্থা যে অত্যন্ত আশাপ্রদ সেই ইঙ্গিত করিয়াও আমার উৎসাহবৰ্দ্ধন করিলেন। এইরূপে সে দিন মোক্ষপথের অনেক নিগৃঢ় তাৎপর্ঘ্য অবগত হইয়। গুরুমহারাজের তৃতীয় চেলাগিরিতে বহাল হইয়া গেলাম। গভীর বিরাগ এবং কঠোর সাধনার জন্ত মহারাজের আদেশে আমাদের সেবার ব্যবস্থাটা অমনি একটু কঠোর রকমের ছিল। তাহার পরিমাণও যেমনি, রসনাতেও তাহা তেমনি। চা, রুটি, ঘৃত, দধি, দুগ্ধ, চুড়া, শর্করা ইত্যাদি কঠোর সাত্ত্বিক ভোজন এবং তাহা জীর্ণ করিবার অকুপান। আবার ভগবৎপদারবিন্দ হইতেও চিত্ত বিক্ষিপ্ত না হয়, সেদিকেও আমাদের লেশমাত্র অবহেলা ছিল না। ফলে আমার শুকনো কাঠে ফল ধরিয়া গেল,—একটুখানি ভূড়ির লক্ষণও দেখা দিল । একটা কাজ ছিল—ভিক্ষায় বাহির হওয়া । সন্ন্যাসীর পক্ষে ইহা সৰ্ব্বপ্রধান কাজ না হইলেও, একটা প্রধান কাজে বটে। কারণ সাত্ত্বিক ভোজনের সহিত ইহার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। কিন্তু মহারাজা নিজে ইহা করিতেন না, আমরা তাহার সেবকেরা পালা করিয়া করিতাম। সন্ন্যাসীর অপরাপর কৰ্ত্তব্যে আমি তাহার অন্য দুই চেলাকে অতি সত্বর ডিঙাইয়া গেলাম ; শুধু এইটাতেই বরাবর খোড়াইতে লাগিলাম। এটা কোনদিনই নিজের কাছে সহজ এবং রুচিকর করিয়া তুলিতে পারিলাম না। তবে এই একটা স্থবিধা ছিল—সেটা হিন্দুস্থানীদের দেশ। আমি ভালমন্দর কথা বলিতেছি না, আমি বলিতেছি, বাঙলা দেশের মত সেখানকার মেয়েরা 'হাতজোড়া—আর একবাড়ি এগিয়ে দেখ’ বলিয়া উপদেশ দিত না, এবং পুরুষেরাও চাকরি না করিয়া ভিক্ষা করি কেন, তাহার কৈফিয়ৎ তলব করিত না। ধনী-দরিদ্রনির্বিশেষে প্রতি গৃহস্থই সেখানে ভিক্ষা দিত—কেহই বিমুখ করিত না । এমনি দিন যায়। দিনপনর ত সেই আম-বাগানের মধ্যেই কাটিয়া গেল । দিনের বেলা কোন বালাই নাই, শুধু রাত্রে মশার কামড়ের জালায় মনে হইত থাক্ মোক্ষসাধন। গায়ের চামড়া আর একটু মোটা করিতে না পারিলে ত আর বাচি না! অন্যান্য বিষয়ে বাঙালী যত সেরাই হোক, এ বিষয়ে বাঙালীর চেয়ে হিন্দুস্থানী-চামড়া যে সন্ন্যাসের পক্ষে ঢের বেশী অনুকূল, তাহা স্বীকার করিতেই হইবে। সেদিন প্রাতঃস্নান করিয়া সাত্ত্বিকভোজনের চেষ্টায় বহির্গত হইতেছি, গুরুমহারাজ ডাকিয়া বলিলেন— - “ভরদ্বাজ মুনি বসহি প্রয়াগ যিনহি রামপদ অতি অনুরাগী—” st