পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (প্রথম সম্ভার).djvu/১৩০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রই ধাবিত হইতেছিল, তাহাতে ত সংশয় নাই। কিন্তু আজ দেখিলাম, অসম্ভব। হঠাৎ বন্ধুর মা অভ্ৰভেদী হিমাচলের ন্যায় পথ রুদ্ধ করিয়া রাজলক্ষ্মী ও আমার মাঝখানে আসিয়া দাড়াইয়াছে। মনে মনে বলিলাম, কাল সকালেই ত আমি এখান হইতে যাইতেছি, কিন্তু তখন যেন মনের মধ্যে লাভালাভের হিসাব করিতে গিয়া হাতের পাচ রাখিবার চেষ্টা না করি। আমার এই যাওয়াটা, যেন যাওয়াই হয়। দেখিতে পাই নাই—ছল করিয়া, একখানি অতিসূক্ষ্ম বাসনার বাধন রাখিয়া না যাই ; যাহার সূত্র ধরিয়া আবার একদিন আসিয়া উপস্থিত হইতে হয়। অন্তমনস্ক হইয়া সেইখানেই বসিয়া ছিলাম ; সন্ধ্যার সময় ধূহূচিতে ধূপ-ধুনা দিয়া সেটা হাতে করিয়া রাজলক্ষ্মী এই বারান্দা দিয়াই আর একটি ঘরে যাইতেছিল, থমকিয়া দাড়াইয়া বলিল, মাথা ধরেচে, হিমে বসে কেন, ঘরে যাও । হালি পাইল। বললাম, অবাক করলে লক্ষ্মী ! হিম এখানে কোথায় ? রাজলক্ষ্মী কহিল, হিম না থাক, ঠাণ্ড বাতাস ত বইচে । সেইটাই কোন ভাল ? ন, সেও তোমার ভুল। ঠাণ্ড গরম কোন বাতাসই বইচে না । রাজলক্ষ্মী কহিল, আমার সমস্তই ভুল। কিন্তু মাথাধরাটা ত আর আমার ভুল নয়—সেটা ত সত্যি ? ঘরে গিয়ে একটু শুয়েই পড় না ! রতন কি করচে ? সে কি একটু ওডিকোলন মাথায় দিতে পারে না ? এ বাড়ির চাকরগুলোর মত ‘বাবু-চাকর আর পৃথিবীতে নেই। বলিয়া রাজলক্ষ্মী নিজের কাজে চলিয়। গেল । রতন যখন ব্যস্ত এবং লজ্জিত হইয়া ওডিকোলন, জল প্রভৃতি আনিয়া হাজির করিল, এবং তাহার ভুলের জন্য বারংবার অনুতাপ প্রকাশ করিতে লাগিল, তখন আমি ন। হাসিয়া থাকিতে পারিলাম না। রতন সাহস পাইয়া আস্তে আস্তে কহিল, এতে আমার যে দোষ নেই, সে কি আমি জানিনে বাৰু? কিন্তু মাকে ত বলবার জো নেই যে, তুমি রেগে থাকলে মিছিমিছি বাড়িগুদ্ধ লোকের দোষ দেখতে পাও । কৌতুহলী হইয়াই প্রশ্ন করিলাম, রাগ কেন ? রতন কহিল, সে কি কারো জানবার জো আছে ? বড়লোকের রাগ বাবু শুধু শুধু হয় আবার শুধু শুধু যায়। তখন গা-ঢাকা দিয়ে না থাকতে পারলেই চাকরবাকরদের প্রাণ গেল ! স্বারের নিকট হইতে হঠাৎ প্রশ্ন আসিল, তখন তোদের কি আমি মাথা কেটে নিই রে রতন ? আর বড়লোকের বাড়িতে বধি এত জালা ত আর কোথাও যাসনে কেন ? মনিবের প্রশ্নে রতন কুষ্ঠিত অধোমুখে নিরুত্তরে বসিয়া রহিল। রাজলক্ষ্মী 为丸锦