প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (প্রথম সম্ভার).djvu/১৩৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শ্রীকান্ত পিয়ারী বলিল, দিয়ে। আমি চিঠি লিখে তোমাকে দু-একটা কথা জিজ্ঞাসা করব | বাহিরে পালকিতে যখন উঠতে যাইতেছি, দেখি দ্বিতলের বারান্দায় পিয়ারী চুপ করিয়া দাড়াইয়া আছে। তাহার বুকের ভিতরে যে কি করিতেছিল তাহার মুখ দেখিয়া তাহা জানিতে পারিলাম না। আমার অন্নদাদিদিকে মনে পডিল। বহুকাল পূৰ্ব্বের একটা শেষদিনে তিনিও যেন ঠিক এমনি গম্ভীর, এমনি স্তব্ধ হইয়া দাড়াইয়াছিলেন । র্তাহার সেই দুটি করুণ চোখের দৃষ্টি আমি আজও ভুলি নাই, কিন্তু সে চাহনিতে যে তখন কত বড় একটা আসন্ন-বিদায়ের ব্যথা ঘনীভূত হইয়া উঠিয়াছিল, তাহা ত পড়িতে পারি নাই। কি জানি, আজও তেমন ধারা একটা-কিছু ওই দুটি নিবিড় কালো চোখের মধ্যেও আছে কি না । নিশ্বাস ফেলিয়া পালকিতে উঠিয়া বসিলাম, দেখিলাম, বড় প্রেম শুধু কাছেই টানে না—ইহা দূরেও ঠেলিয়া ফেলে। ছোটখাট প্রেমের সাধ্যও ছিল না—এই স্বথৈশ্বৰ্য্য-পরিপূর্ণ স্নেহ-স্বৰ্গ হইতে মঙ্গলের জন্য, কল্যাণের জন্য, আমাকে আজ একপদও নড়াইতে পারিত। বাহকের পালকি লইয়া স্টেশন-অভিমুখে দ্রুত পদে প্রস্থান করিল। মনে মনে বারংবার বলিতে লাগিলাম, লক্ষ্মী, দুঃখ করিয়ো না ভাই, এ ভালই হইল যে, আমি চলিলাম । তোমার ঋণ ইহজীবনে শোধ করিবার শক্তি আমার নাই। কিন্তু যে জীবন তুমি দান করিলে, সে জীবনের অপব্যবহার করিয়া আর না তোমার অপমান করি—দূরে থাকিলেও এ সঙ্কল্প আমি চিরদিন অক্ষুণ্ণ রাখিব । ›: ዓ