প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (প্রথম সম্ভার).djvu/৩৬১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


চন্দ্রনাথ অত্যাচারের মলিন-ছায়া পড়িয়াছে। দয়ালঠাকুর ঘৃণায় ওষ্ঠ কুঞ্চিত করিয়া সেইরূপ কর্কশ ভাষায় জিজ্ঞাসা করিলেন, কিন্তু কার হুকুমে ? হুকুম আবার কি ? লোকটার মুখের ভাব পরিবৰ্ত্তিত হইল ; সহসা যেন তাহার স্মরণ হইল, প্রশ্নকর্তার উপর তাহার জোর আছে এবং এ বাড়ির উপরেও কিঞ্চিং দাবী আছে । " দয়ালঠাকুর এরূপ উত্তরে অসম্ভব চটিয়া উঠিলেন, উচ্চস্বরে কহিলেন, ব্যাটা মাতাল, জান, তোমাকে এখনি জেলে দিতে পারি ? সে বিদ্রুপ করিয়া কহিল, জানি বৈ কি ! দয়ালঠাকুর প্রায় প্রহার করিতে উষ্ঠত হইলেন, জান বৈ কি ! চল ব্যাট, এখনি তোকে পুলিসে দেব। লোকটা ঈষৎ হাসিয়া এরূপ ভাব প্রকাশ করিল, যেন পুলিশের নিকট যাইতে তাহার বিশেষ আপত্তি নাই | কহিল, এখনি দেবে ? দয়ালঠাকুর ধাক্কা দিয়া বলিলেন, এখনি । লোকটা ধাক্কা সাম্‌লাইয়া স্থির হইয়া গম্ভীরভাবে বলিল, ঠাকুর, একেবারে অত বিক্রম প্রকাশ কোরো না। পুলিশে দেবে কি থানায় দেবে, একটু বিলম্ব ক’রে দিয়ে। আমি তোমাকে কাশী ছাড়া করতে পারি, জান ? দয়ালঠাকুর উন্মত্তের মত চীৎকার করিয়া উঠিলেন, ব্যাট পাজি, আজ আমার চল্লিশ বছর কাশীবাস হ’ল, এখন তুমি কাশীছাড়া করবে। তিনি ভাবিয়াছিলেন, লোকটা র্তাহাকে গুণ্ডার ভয় দেখাইতেছে । অনেকে এ কথায় হয় ত ভয় পাইত, কিন্তু এই দীর্ঘকালের কাশীবাসে দয়ালঠাকুরের এ ভয় ছিল না। বলিলেন, ব্যাটা, আমার কাছে গুণ্ডাগিরি ! গুণ্ডাগিরি নয়, ঠাকুর, গুওাগিরি নয় । পুলিসে নিয়ে চল । সেখানেই সব কথা প্রকাশ করব । কোন কথা প্রকাশ করবে ? যা জানি। যাতে তুমি কাশী ছেড়ে পালাতে পথ পাবে না। যাতে সমস্ত দেশের লোক শুনবে যে, তুমি জাতিচু্যত অব্রাহ্মণ । আমি অব্রাহ্মণ । রাগ কোরো না, ঠাকুর। তুমি জাতিচু্যত। শুধু তাই নয়। তোমার কাছে যত ভদ্রসস্তান বিশ্বাস ক’রে এসেছে, এই তিন বৎসরের মধ্যে যত লোককে झुर्षि अद्र cदप्रुश्, সকলেরই জাত গেছে। সকলকেই আমি সে কথা বলবো । °盘创