প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (প্রথম সম্ভার).djvu/৩৬২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎসাহিত্য-সংগ্ৰহ দয়ালঠাকুর ভয় পাইলেন। ভয়ের যথার্থ কারণ হৃদয়ঙ্গম হইবার পূৰ্ব্বেই উদ্ধত কণ্ঠস্বর নরম হইয়া আসিল । তথাপি বলিলেন, আমি লোকের জাত মেরেছি ? : তাই। আর প্রমাণ করবার ভারও আমার । ঠাকুর নরম হইয়া কণ্ঠস্বর কিছু কম করিয়া বলিলেন, কথাটা কি, ভেঙে বল দেখি বাপু ? লোকটা মৃদ্ধ হাসিয়া কহিল, একাই শুনবে, না, দু-দশজন লোক ডাকৃবে। আমি বলি, দু-চারজন লোক ডাক । দু-চারজন পাড়-পড়শীর সামনে কথাটা শোনাবে ভাল। দয়ালঠাকুর তাহার হাত ধরিয়া বলিলেন, রাগ কোরো না বাপু । আমি হঠাৎ বড় অন্যায় কাজ করেছি। কিছু মনে কোরো না । এস, ঘরে চল । দুই জনে একটা ঘরে আসিয়া বসিলে দয়ালঠাকুর কহিলেন, তার পর । সে কহিল, স্বলোচনা—যার হাতে আপনার অন্ন প্রস্তুত হয়, তাকে কোথায় পেলেন ? এইখানেই পেয়েছি। দুঃখীর কন্যা, তাই আশ্রয় দিয়েছি। টাকাওয়ালা লোককে আশ্রয় দিয়েছেন, এ কথা আমি বলছি না। কিন্তু সে কি জাত, তার অনুসন্ধান করেছেন কি । দয়ালঠাকুরের সমস্ত মুখমণ্ডল একেবারে বিবর্ণ হইয়া গেল। তিনি বলিলেন, ব্রাহ্মণ-কস্তা, বিধবা, শুদ্ধাচারিণী, তার হাতে খেতে দোষ কি ? ব্রাহ্মণ-কন্যা এবং বিধবা, এ কথা সত্যি, কিন্তু কেউ যদি কুলত্যাগ ক’রে চলে যায়, তাকেও কি শুদ্ধাচারিণী বলা চলে ? না, তার হাতে খাওয়া যায় ? * দয়ালঠাকুর জিভ কাটিয়া বলিলেন, শিব ! শিব ! তা কি খাওয়া যায় ? তবে তাই। পনেরো-ষোল বৎসর পূৰ্ব্বে স্থলোচনা তিন বছরের একটি মেয়ে নিয়ে গৃহত্যাগ করে, এবং তাকেই আশ্রয় দিয়ে আপনি নিজের এবং আর পাচ জনের সৰ্ব্বনাশ করেছেন । প্রমাণ ? প্রমাণ আছে বৈকি ! তার জন্ত ভাব খেন না । যার সঙ্গে কুলত্যাগ করেন, সেই অসীম প্রেমাম্পদ রাখাল ভট্টচার্য এখনো বেঁচে আছেন। দয়াল লোকটার মুখের পানে ক্ষণকাল চাহিয়া রহিলেন। মনে হইল, যেন ইহারই নাম রাখাল। বলিলেন, তুমি কি ব্রাহ্মণ ? or & লোকটা মলিন উড়ানির ভিতর হইতে অধিকতর মলিন ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন যজ্ঞোপবীত বাহির করিয়া হাসিয়া বলিল, না, না, গোয়ালা ! \odoo