প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (প্রথম সম্ভার).djvu/৩৮০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ নিলাম করিয়া লইয়াছে। এখন সে মুক্তঋণ, সৰ্ব্বস্বহীন সন্ন্যাসিনী। তাই সে স্বামীর সহিত স্বচ্ছন্দে কথা কহে, বন্ধুর মত, শিক্ষকের মত উপদেশ দিয়া নিৰ্ভীক মতামত প্রকাশ করে। আর সেদিনের রাত্রে দুইজন দুই জনকে ক্ষমা করিয়াছে। চন্দ্রনাথ বিষ খাইতে প্রলুদ্ধ করিয়াছিল, তাহার এ আত্মপ্পানি সরযুর সব দোষ ঢাকিয়া দিয়াছে। পরদিন প্রাতঃকাল হইতে হরকালী একখও কাগজে টিকিট আঁটিয়া স্বামীকে দিয়া মাথামুগু কত-কি লিখাইতেছিলেন। ব্রজকিশোর একবার জিজ্ঞাসা করিলেন, এত লিখে কি হবে ? হরকালী তাড়া দিয়া বলিলেন, তোমার যদি একটুও বুদ্ধি থাকত, তাহ’লে জিজ্ঞস করতে না । একবার আমার কথা না শুনে এইটি ঘটেছে, আর কোন বিষয়ে নিজের বুদ্ধি খাটাতে যেয়ে না। হরকালী যাহা বলিলেন, স্ববোধ শিশুর মত ব্রজকিশোর তাহা লিখিয়া লইলেন । শেষ হইলে হরকালী স্বয়ং তাহা আদ্যোপাস্ত পাঠ করিয়া মাথা নাড়িয়া বলিলেন, ঠিক হয়েছে। নিৰ্ব্বোধ ব্রজকিশোর চুপ করিয়া রহিলেন। অপরাহ্লে হরকালী কাগজখানি হাতে লইয়া সরযুর কাছে আসিয়া কহিলেন, বউমা, এই কাগজখানিতে তোমার নামটি লিখে দাও । কাগজ হাতে লইয়া সরযু মুখপানে চাহিয়া কহিল, কেন মামীম ? যা বলুচি, তাই কর না বউমা । কিসে নাম লিখে দেব, তাও কি শুনতে পাব না ? হরকালী মুখখানা ভারী করিয়া কহিলেন, এটা বাছা তোমারই ভালোর জন্তে । তুমি এখানে যখন থাকবে না। তখন কোথায় কিভাবে থাকবে, তাও কিছু আমরা আর সন্ধান নিতে যাব না। তা বাছ, যেমন ক’রেই থাক না কেন, মাসে পাচ টাকা ক’রে খোরাকী পাবে। একি মন্দ ? ভাল-মন্স সরযু বুঝিত। এবং এই হিতাকাঙ্কিণীর বুকের ভিতর যতটুকু হিত প্রচ্ছন্ন ছিল, তাহাও বুঝিল, কিন্তু যাহার প্রাসাদতুল্য অট্টালিক নদীগর্তে ভাদিয়া পড়িতেছে সে আর খানকতক ইট-কাঠ বাচাইবার জন্ত নদীর সহিত কলহ করিতে চাছে না। সরযু সেই কথা ভাবিল। তথাপি একবার হরকালীর মুখের পানে চাহিয়া দেখিল। সেই দৃষ্টি। ষে দৃষ্টিকে হরকালী সৰ্ব্বাত্তাকরণে ঘৃণা করিতেন, ভয় করিতেন, আজিও তিনি এ চাহনি সহিতে পারিলেন না। চোখ নামাইয়া বলিলেন, বউমা ! wጋፃፀ