প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (প্রথম সম্ভার).djvu/৩৯৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


5ठेंनाथं ফাকি দিয়া আকণ্ঠ জল খায়, এবং যেদিন হইতে তাহার বিশ্বাস জন্সিয়াছে যে, তাহার শুভ্র, কোমল উদর এবং মুখের উপর কয়লা কিংবা ধূলার প্রলেপ দিতে পারিলেই দেহের শোভা বাড়ে, সেইদিন হইতে সরযুর কোল ছাড়িয়া মাটি এবং তথা হইতে কৈলাসচন্দ্রের ক্রোড়ে স্থান করিয়া লইয়াছে। সকালবেল কৈলাসচন্দ্র ডাকেন, ‘বিশু' ; বিশু মুখ বাড়াইয়া বলে, ‘দাদু’ ; কৈলাশচন্দ্র বলেন, 'চল ও দাদা, শম্ভু মিশিরকে এক বাজি দিয়ে আসি', সে অমনি দাবার পুটলিটা হাতে লইয়া তল’ বলিয়া দুই বাহু প্রসারিত করিয়া বৃদ্ধের গলা জড়াইয়া ধরে । কৈলাসচন্দ্রের আনন্দের সীমা থাকে না। সরযুকে ডাকিয়া বলেন, মা, বিশু আমার একদিন পাকা খেলোয়াড় হবে। সরযু মুখ টিপিয়া হাসে, বিণ্ড দাবার পুটলি হাতে লইয়া বুদ্ধের কোলে বসিয়া দাবা খেলিতে বাহির হয়। পথে যাইতে যদি কেহ তামাসা করিয়া কহে, খুড়ো, বুড়ো-বয়সে কি আরও দুটো হাত গজিয়েচে ? বৃদ্ধ একগাল হাসিয়া বলেন, বাবাজী, এ হাত দুটোতে আর জোর নেই, বড় শুকনো হয়ে গেছে ; তাই দু'টে। নূতন হাত বেরিয়েচে, যেন সংসারের গাছ থেকে পড়ে না যাই । তাহারা সরিয়া যায়—বুড়োর কাছে কথায় পারিবার জো নাই । শম্ভু মিশিরের বাটতে সতরঞ্চ খেলার মধ্যে শ্রমান বিশ্বেশ্বরেরও একটা নিদিষ্ট স্থান আছে । দাদামহাশয়ের জামুর উপর বসিয়। লাল রঙের কোচা ঝুলাইয়া গম্ভীরভাবে চাহিয়া থাকে, যেন দরকার হইলে সেও দুই-একটা চাল বলিয়া দিতে পারে। হস্তীদন্ত-নিৰ্ম্মিত বলগুলা যখন একটির পর একটি করিয়া তাহার দাদামহাশয়ের হস্তে নিহত হইতে থাকে, অতিশয় উৎসাহের সহিত বিশ্বেশ্বর সেগুলি দুই হাতে লইয়া পেটের উপর চাপিয়া ধরে। কিন্তু লাল রঙের মন্ত্রীটার উপরই তাহার ঝে"কটা কিছু অধিক । সেটা যতক্ষণ হাতে না আসিয়া উপস্থিত হয়, ততক্ষণ সে লোলুপ-দৃষ্টিতে চাহিয়া থাকে। মাঝে মাঝে তাগিদ দিয়া কহে, দাঙ্ক ঐতে, কৈলাসচন্দ্র খেলার ঝোকে অন্যমনস্ক হইয়া কহেন, দাড়া দাদা—। কখন হয়ত বা সে আশে-পাশে সরিয়া যায়, কৈলাসচন্দ্রের মনটিও চঞ্চলভাবে একবার বিশু ও একবার সতরঞ্চের উপর আনাগোনা করিতে থাকে, গোলমালে হয়ত বা একটা বল মারা পড়ে—কৈলাসচন্দ্র অমনি ফিরিয়া ডাকেন, দাদু, হেরে যাই যে-আয় আয়, ছুটে আয়। বিশ্বেশ্বর চুটিয়া আসিয়া তাহার পূর্বস্থান অধিকার করিয়া বসে, সঙ্গে সঙ্গে বৃদ্ধেরও দ্বিগুণ উৎসাহ ফিরিয়া আসে। খেলা শেষ হইলে সে লাল মন্ত্রীট হাতে লইয়া দাদামহাশয়ের কোলে উঠিয়া বাটী ফিরিয়া যায়। רישס\