পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (প্রথম সম্ভার).djvu/৩৯৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ কৈলাসচন্দ্র বিশ্বেশ্বরকে সবলে বক্ষে চাপিয়া হাঁহ-রবে কাদিয়া উঠিলেন। অন্তরের অন্তর কাপিয়া কাপিয়া কাদিয়া উঠিল, আয়, আয়, আয় । সভায় কেহই বৃদ্ধের এ ক্ৰন্দন অস্বাভাবিক মনে করিল না। কারণ, বয়সের সহিত সকলেরই কেহ না কেহ হারাইয়া গিয়াছে। সকলেরই হৃদয় কাদিয়া ডাকিতেছে —ফিরে আয়, ফিরে আয়, ফিরে আয়! কৈলাসচন্দ্র চক্ষু মুছিয়া বিশ্বেশ্বরকে ক্রোড়ে তুলিয়া বলিলেন, চল দ্বাদ, বাড়ি ধাই—রাত্তির হয়েচে । বিণ্ড কোলে উঠিয়া বাড়ি চলিল। অনেকক্ষণ একস্থানে বসিয়া থাকিয়া তাহার ঘুম পাইয়াছিল, পথিমধ্যে ঘুমাইয়া পড়িল । বাড়ি গিয়া কৈলাসচন্দ্র সরযুর নিকট তাহাকে নামাইয়া দিয়া বলিলেন, নে মা, তোর জিনিস তোর কাছে থাক । সরযু দেখিল, বুড়োর চক্ষু দু'টি আজ বড় ভাগী হইয়াছে। পঞ্চদশ পরিচ্ছেদ এই দুই বৎসরের মধ্যে চন্দ্রনাথের সহিত তাহার বাটীর সম্বন্ধ ছিল না। শুধু অর্থের প্রয়োজন হইলে সরকারকে পত্র লিখিত, সরকার লিখিত ঠিকানায় টাকা পাঠাইয়া দিতেন । দুঃখ করিয়া হরকালী মধ্যে মধ্যে পত্র লিখিতেন। ব্রজকিশোর ফিরিয়া আসিবার জল্প অনুরোধ করিয়া চিঠি দিতেন । মণিশঙ্করও দুই-একখানা পত্র লিখিয়াছিলেন যে, তাহার শারীরিক অবস্থা ক্রমশঃ মন্দ হইয়া আসিতেছে, এ সময় একবার দেখিবার ইচ্ছা করে। প্রথমে চন্দ্রনাথ সে-সকল কথায় কর্ণপাত করিত না, কিন্তু যেদিন হরিবালা লিখিলেন, তুমি স্ববিধা পাইলে একবার আসিয়ে, কিছু বলিবার আছে, সেই দিন চন্দ্রনাথ তলি বাধিয়া গাড়িতে উঠিল । হরিবালা যদি কিছু কহেন, যদি কোন পত্র, যদি কোন হস্তলিপি দেখাইতে পারেন, যদি সেই বিগত স্বখের একটু আভাস তাহাতে দেখিতে পাওয়া যায়,— তাহা হইলে—কিছু নয়। তথাপি চন্দ্রনাথ বাট অভিমুখে ছুটিয়া আসিতে চাহিল। কিন্তু এতখানি পথ যে আশায় ভর করিয়া ছুটিয়া আসিল, বাটতে আসিয়া তাহার Ф?»