প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (প্রথম সম্ভার).djvu/৪০৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অষ্টাদশ পরিচ্ছেদ কিন্তু চন্দ্রনাথ যখন বৃদ্ধকে উদ্দেশ করিয়া কহিল, কাল এদের নিয়ে যাব, তখন কৈলাসচন্দ্রের বক্ষ-পঙ্করের মধ্যে এককালে শতাধিক কামান-দাগার মত শব্দ করিয়া উঠিল । নিজে কি কহিলেন, নিজের কানে সে শব্দ পৌছিল না। কিন্তু চন্দ্রনাথ শুনিল, অফুট ক্ৰন্দনের মত বহুদূর হইতে কে ধেন কহিল, এমন সুখের কথা আর কি আছে ! সরযু এ সংবাদ শুনিয়া আনন্দ প্রকাশ করিল না, তাহার দুই চক্ষু বাহিয়া অশ্রু গড়াইয়া পড়িল। স্বামীর পদযুগল মস্তকে স্পর্শ করিয়া বলিল, পায়ের ধূলো দিয়ে হতভাগিনীকে এইখানেই রেখে যাও, আমাকে নিয়ে যেয়ে না। চন্দ্রনাথ বলিল, কেন ? সরযু জবাব দিতে পারিল না—কাদিতে লাগিল। বৃদ্ধ কৈলাসচন্দ্রের কাতর মুখখানি তাহার চোখের উপরে কেবলি ভাসিয়া উঠিতে লাগিল । চন্দ্রনাথ কিছুক্ষণ চুপ করিয়া থাকিয়া বলিল, আমি তোমার স্বামী, আমি যদি নিয়ে খাই, তোমার অনিচ্ছায় কিছু হবে না । আমি বিশুকে ছেড়ে থাকতে পারব না । সরযু দেখিল, তাহার কিছু বলিবার নাই । পরদিন প্রাতঃকাল হইতে কৈলাসচন্দ্র বিশ্বেশ্বরকে সেদিনের মত কোলে তুলিয়া লইলেন। দাবার পুটুলি হাতে করিয়া শম্ভু মিশিরের বাড়ি আসিলেন। তাহাকে ডাকিয়া বলিলেন, মিশিরজী । আজ আমার মুখের দিন—বিশুদাদা আজ তার নিজের বাড়ি যাবে। বড় হয়েছে ভাই, কুঁড়ে ঘরে আর তাকে ধ’রে রাখা যায় না । মিশিরজী আনন্দ প্রকাশ করিলেন । কৈলাসচন্দ্র সতরঞ্চ পাতিয়া বল সাজাইয়া বলিলেন, আজ আমোদের দিনে এস, তোমাকে দু’বাজি মাৎ ক’রে যাই । খেলার প্রারম্ভেই কিন্তু কৈলাসচন্দ্র একে একে বল হারাইতে লাগিলেন। গঙ্গ চালিতে নৌকা, নৌকা চালিতে ঘোড়া, এমনি বড় গোলমাল হইতে লাগিল । মিশিরজী কহিল, বাবুর্জী, আজ তোমার মেজাজ চৈন নেই, বহুত গলতি হোতা। ক্রমে এক বাজির পর আর এক বাজি হারিয়া কৈলাসচন্দ্র খেল উঠাইয়া পুটুলি বাধিতে বসিলেন, কিন্তু লাল মন্ত্রীট বাধিলেন না। বিশুর হাতে দিয়া বলিলেন, פי • 8