প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (প্রথম সম্ভার).djvu/৪৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শ্ৰীকান্ত অনেকবার আসে না । একবার যদি আসে, সে সমস্ত চেতনার উপর এমন গভীর একটা ছাপ মারিয়া দিয়া যায় যে, সেই ছাচেই সমস্ত পরবর্তী জীবন গড়িয়া উঠিতে থাকে। আমার তাই বোধ হয়, স্ত্রীলোককে কখনও আমি ছোট করিয়া দেখিতে পারিলাম না। বৃদ্ধি দিয়া যতই কেন না তর্ক করি, সংসারে পিশাচী কি নাই ? নাই যদি তবে পথে-ঘাটে এত পাপের মূৰ্ত্তি দেখি কাহাজের । সবাই যদি সেই ইন্দ্রের দিদি, তবে এত প্রকার দুঃখের স্রোত বহাইতেছে কাহার ? তবুও কেমন করিয়া যেন মনে হয়, এ সকল তাহদের শুধু বাহ আবরণ, যখন খুশি ফেলিয়া দিয়া ঠিক র্তার মতই সতীর আসনের উপর অনায়াসে গিয়া বসিতে পারে। বন্ধুরা বলেন, ইহা অামার একটা অতি জঘন্য শোচনীয় ভ্রম মাত্র। আমি তাহারও প্রতিবাদ করি না। শুধু বলি, ইহা আমার যুক্তি নয়—আমার সংস্কার। সংস্কারের মূলে যিনি, জানি ন। সেই পুণ্যবতী আজও বাচিয়া আছেন কি না। থাকিলেও কোথায় কি ভাবে আছেন, তাহার নির্দেশমত কখনো কোন সংবাদ লইবার চেষ্টা করি নাই। কিন্তু কত যে মনে মনে তাকে প্রণাম করিয়াছি, তাহা যিনি সব জানিতে পারেন, তিনিই জানেন । শ্মশানের সেই সঙ্কীর্ণ ঘাটের পাশে বটবৃক্ষমূলে ডিঙি বাধিয়া যখন দুজনে রওনা হইলাম, তখনও অনেক বেলা ছিল। কিছু দূর গিয়া ডানদিকে বনের ভিতর ঠাহর করিয়া দেখায় একটা পথের মতও দেখা গেল। ইন্দ্র তাহাই ধরিয়া ভিতরে প্রবেশ করিল। প্রায় দশ মিনিট চলিবার পর একটা পর্ণকুটার দেখা গেল। কাছে আসিয়া দেখিলাম, ভিতরে ঢুকিবার পথ আগড় দিয়া আবদ্ধ। ইন্দ্র সাবধানে তাহার বাধন খুলিয়া ঠেলা দিয়া প্রবেশ করিল এবং আমাকে টানিয়া লইয়া পুনরায় তেমনি করিয়া বাধিয়া দিল । আমি তেমন বাসস্থান কখনো জীবনে দেখি নাই। একে ত চতুর্দিকেই নিবিড় জঙ্গল, তাহাতে মাথার উপরে একটা প্রকাও তেঁতুল গাছ এবং পাকুড় গাছে সমস্ত জায়গাটা যেন অন্ধকার করিয়া রাখিয়াছে। আমাদের সাড়া পাইয়া একপাল মুরগি এবং ছানাগুলা চীৎকার করিয়া উঠিল । একধারে বাধা গোটা-দুই ছাগল ম্যা ম্যা করিয়া ডাকিয়া উঠিল । সুমুখে চাহিয়া দেখি—ওরে বাবা ! একটা প্রকাগু অজগর সাপ আঁকিয়া-বাকিয়া প্রায় সমস্ত উঠান জুড়িয়া আছে। চক্ষের নিমেষে অস্ফুট চীৎকারে মুরগিগুলাকে আরও ত্রস্ত ভৗত করিয়া দিয়া আঁচড়-পিচড় করিয়া একেবারে সেই বেড়ার উপর চড়িয়া বসিলাম। ইন্দ্র খিল-খিল করিয়া হাসিয়া উঠিয়া কহিল, ও কিছু বলে না রে, বড় ভাগমানুষ। ওর নাম রহিম । বলিয়া কাছে গিয়া তাহার পেটুটা ধরিয়া টানিয়া উঠানের ওধারে সরাইয়া দিল। তখন নামিয়া আসিয়া ডান দিকে চাহিয়া দেখিলাম, רסא